Joy S Kamdar ED Custody
Bengal Liberty, Kolkata:
গ্রেফতারের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে নতুন নয় (Joy S Kamdar ED Custody)। অতীতে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর অসুস্থতার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নতুন করে নাম জুড়ল ব্যবসায়ী জয় কামদারের।

হাসপাতালে ভর্তি ধৃত ব্যবসায়ী (Joy S Kamdar ED Custody)
গতকাল সোনা পাপ্পু মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যবসায়ী জয় কামদারকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় (Joy S Kamdar ED Custody)। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ে। ওই হাসপাতালে বেড না থাকায়, ধৃত ব্যবসায়ীকে নিয়ে জোকা ESI-এর দিকে রওনা দেয় ইডি। গাড়িতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন ধৃত ব্যবসায়ী জয় এস কামদার। এরপর গাড়ি ঘুরিয়ে আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ধৃত ব্যবসায়ীকে। গতকাল আর জি কর মেডিক্যালে জয় এস কামদারকে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে ধৃত ব্যবসারীয় শারীরিক অবস্থা জানতে হাসপাতালে আসেন ৮ ইডি আধিকারিক। তারপর আজ আরজিকর হাসপাতাল থেকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয় ধৃত ব্যবসায়ীকে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—গ্রেফতারের পর অসুস্থতা কি সত্যিই হঠাৎ করে দেখা দিচ্ছে, নাকি এটি আইনি চাপ এড়ানোর একটি পরিচিত কৌশল (Joy S Kamdar ED Custody)?

২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ কোর্টের (Joy S Kamdar ED Custody)
আজ সোমবার, ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় বেহালা থেকে ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। শুনানির পর আদালত অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, জয় এস কামদারের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের হদিস মিলেছে। সেই কারণেই তাঁর আর্থিক নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা। ইডি সূত্রের খবর, তদন্তে এখন পর্যন্ত কামদারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অন্তত ২৫টি ভুয়ো বা শেল সংস্থার সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ঘোরানো হয়েছে। এই লেনদেনের মাধ্যমেই অবৈধ অর্থ লুকোনোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। আদালতে ইডি দাবি করে, পুরো আর্থিক চক্রটি বুঝতে এবং আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

ওসি বদলিতেও কামদারের হাত- ইডি (Joy S Kamdar ED Custody)
ইডি সূত্রে দাবী করা হয়েছে, ডিএসপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে পুলিশেও ব্যাপক প্রভাব রয়েছে কামদারের। এমনকি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ২ ছেলের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য আদালতে পেশ করেছে ইডি। একাধিক থানার ওসির বদলিতেও হাত ছিল জয় এস কামদারের। বদলি করার পরে ‘মাই লর্ড, থ্যাঙ্ক ইউ’ বলে মেসেজ এক ওসির। আশীর্বাদ চেয়ে মাই লর্ড বলে মেসেজ সিঁথির তৎকালীন অতিরিক্ত ওসির, ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় ধৃত জয় কামদারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির।
Joy Kamdar Update: ধৃত কামদারকে আজ ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হবে@JoyKamdar @bengalliberty @Electoralbondd #bengalliberty #westbengalnews #joykamdar #sungroup #westbengal #edraid pic.twitter.com/pa2pDnNiI5
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 20, 2026
ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আবারও সামনে এসেছে সেই পুরনো প্রশ্ন—গ্রেফতারের পর হঠাৎ অসুস্থতার ঘটনা কি কাকতালীয়, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও উদ্দেশ্য? তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপই দেবে সেই উত্তর।
