Prakash Chik Baraik
Bengal Liberty, ১১ জুন :
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত টালমাটাল তৃণমূল কংগ্রেস (Prakash Chik Baraik)। জনসমর্থনের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার দলের সংসদীয় শক্তিতেও একের পর এক ফাটলের ছবি প্রকট হতে শুরু করেছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বিদায়ে ক্রমশ চাপে পড়ছে ঘাসফুল শিবির। বৃহস্পতিবার ফের রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। মাত্র সাত দিনের মধ্যে এটি তৃতীয় পদত্যাগ। বলাই বাহুল্য প্রথমে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক হারিয়ে পরিষদীয় দল, তারপর এক এক করে সাংসদ হারিয়ে ক্রমশ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দলের অন্দরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, এই ধারাবাহিক ইস্তফা তারই বহিঃপ্রকাশ (Prakash Chik Baraik)।

এক সপ্তাহে তিন সাংসদের বিদায় (Prakash Chik Baraik)
গত সোমবার প্রথম ধাক্কা আসে। প্রবীণ তৃণমূল নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় সাংসদ পদ এবং দল, দুইই ছেড়ে দেন। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই বুধবার পদত্যাগ করেন উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিচিত মুখ সুস্মিতা দেব। আর বৃহস্পতিবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন প্রকাশ চিক বরাইক। টানা তিন সাংসদের ইস্তফায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১০-এ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটাই শেষ নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও কয়েকজন সাংসদ দল ছাড়তে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংগঠনিক শক্তি আরও ক্ষয় হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

অভিষেক-ঘনিষ্ঠ নেতার পদত্যাগ (Prakash Chik Baraik)
প্রকাশ চিক বরাইককে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল দল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থীও করা হয়েছিল। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। ইস্তফার পর প্রকাশ চিক বরাইক জানান, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের যে রায় এসেছে, তাকে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা অন্য কোনও দলে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি মুখ না খোলায় জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে আরও বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারে রাজ্য।


