Chandana Bauri
Bengal Liberty, ২৩ এপ্রিল :
শালতোড়া বিধানসভা বর্তমান বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলা যায়। এই বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই মূলত দুই দলের – তৃণমূল এবং বিজেপি (Chandana Bauri)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে থেকে বিজেপির হতে ভোটে দাঁড়িয়েছেন প্রান্তিক মহিলা চন্দনা বাউরি এবং তৃণমূল প্রার্থী উত্তম বাউরি। একরম নতুন প্রতিষ্ঠিত বিধানসভা কেন্দ্র শালতোড়া ২১ সালেই মুকুট ছিনিয়ে নেয় বিজেপির চন্দনা বাউরি। বিজেপি ফের তাঁকে প্রার্থী করেছে একই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। এই সেই চন্দনা বাউরি যার প্রসঙ্গে খোদ বিরোধী দলনেতা বলেছিলেন, ” চন্দনা বাউরি একমাত্র মহিলা যে মমতা বিধানসভায় মমতাকে ধরাশায়ী করতে পারে”। তাই বারংবার খবরের শিরোনামে এসেছেন চন্দনা অপরদিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি তৃণমূল প্রার্থী উত্তম বাউরিকে (Chandana Bauri)।

ভোট দিয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দিলেন চন্দনা? (Chandana Bauri)
বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই নিজের গণতান্ত্রিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪১ নম্বর বুথে উপস্থিত হয়ে ভোট দান করেন বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরি। তিনি ভোট দিয়ে এসেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোট দেওয়ার আগে ভেবে চিন্তে ভোট দিতে। যে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, যে চাকরি দেবে, সাধারণের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করবে এবং সার্বিক উন্নয়ন ঘটাবে তাঁকেই ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান চন্দনা বাউরি। শুধু নির্বাচনের দিন বলেই নয় নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই চর্চায় ছিলেন মহিলা। সংসার এবং প্রচার সমানতালে সামলেছেন চন্দনা।
অপরদিকে তৃণমূল প্রার্থী উত্তর বাউরি যাকে কার্যত খবরে বা এলাকায় একরকম দূরবীন নিয়ে খুঁজতে হয়। একজন মহিলা নেত্রী যে একহাতে নিজের সংসার সামলাচ্ছেন এবং অপরদিকে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বউ চন্দনা বাউরি তাই বরাবরই খবরের শিরোনামে উঠে আসে।

একঝলকে শালতোড়ার সার্বিক চিত্র (Chandana Bauri)
শালতোড়া বাঁকুড়া জেলার একটি ব্লক স্তরের শহর এবং তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। মাত্র ১৫ বছর আগে গঠিত এই কেন্দ্রটি শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শালতোড়া ও মেজিয়া ব্লক এবং গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর শালতোড়ায় এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রথম দু’টি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সহজ জয় পায়। ২০১১ সালে স্বপন বাউরি CPIM-এর ষষ্ঠীচরণ বাউরিকে ১২ হাজার ৬৯৭ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ১২ হাজার ৫২৩ ভোটে পরাজিত করেন। দীর্ঘদিন প্রান্তিক শক্তি হিসেবে থাকা বিজেপি ২০২১ সালে আসনটি দখল করে। চন্দনা বাউরি তৃণমূলের সন্তোষ কুমার মণ্ডলকে ৪ হাজার ১৪৫ ভোটে হারান। সেই নির্বাচনে CPIM অনেক পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার অঙ্ক কি হতে চলেছে তাই এখন দেখার। প্রান্তিক মহিলা চন্দনা বাউড়ির জয় টিকে থাকবে নাকি কিছু না করেও জিত হাসিল করবে তৃণমূল।
আরও পড়ুন :
