Dubrajpur poll violence
Bengal liberty desk, কলকাতা:
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতে যখন আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, ঠিক তখনই বীরভূমের দুবরাজপুরে চলল নজিরবিহীন হামলা Dubrajpur poll violence। যে কেন্দ্রীয় বাহিনী সারাদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করল, শেষ বেলায় দুবরাজপুরে তাঁদের ওপরই আছড়ে পড়ল উন্মত্ত জনতা। একদল দুষ্কৃতীর ইটের ঘায়ে রক্তাক্ত হলেন অন্তত ছয়জন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়িও।

দুবরাজপুরে জওয়ানদের ওপর হামলা Dubrajpur poll violence
বৃহস্পতিবার বিকেলে বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকায় ডিউটি চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে অতর্কিত ইটবৃষ্টি শুরু হয়। মুহুর্মুহু ইটের আঘাতে জওয়ানরা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। গুরুতর আহত ৬ জন জওয়ানকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের একটি গাড়িকেও লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালানো হয়। গ্রামবাসীর একাংশের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার জেরেই এই জনরোষ। তবে রক্ষীদের ওপর এমন সরাসরি হামলা নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

আর কোথায় কোথায় আক্রান্ত হলো বাহিনী?
দুবরাজপুর ছাড়াও দিনভর আরও কয়েকটি জায়গায় জওয়ানদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের শিবনগর এলাকায় ভোট চলাকালীন উত্তেজনা ছড়ালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তা সামাল দিতে যান। অভিযোগ, সেখানে বাঁশ ও লাঠি হাতে জওয়ানদের রীতিমতো ঠেলে দেওয়া হয় এবং তাঁদের সঙ্গে চরম ধস্তাধস্তি চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ডোমকলে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে গিয়ে জওয়ানদের বাধার মুখে পড়তে হয়। ভোটারদের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকা পাহারায় না থাকায় তাঁরা ভোট দিতে যেতে পারছেন না। পরে বাহিনী যখন গ্রামে ঢোকে, তখন তাঁদের সঙ্গেও বচসা শুরু হয়।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:
এবার বাংলায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও খোদ জওয়ানদের ওপর হামলা এবং তাঁদের রক্ত ঝরার ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত প্রশাসন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই ভোটকে গত কয়েক বছরের তুলনায় ‘শান্তিপূর্ণ’ বললেও, জওয়ানদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই ঘটনাগুলো কিন্তু এক অন্য ছবি তুলে ধরছে।
