Jadavpur University issue
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যকে বিকৃত করার অভিযোগ উঠল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের অপব্যখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর Jadavpur University issue
সূত্রের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন এবং তাতে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। কিন্তু বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বিকৃত করে দেখানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র সরকারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক (NIRF)-এ শীর্ষস্থান অর্জন করে আসছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এভাবে অপমান করা অনভিপ্রেত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মেধার জোরেই সেখানে পড়াশোনার সুযোগ পায় এবং ডিগ্রি অর্জন করে। প্রশ্ন করার ক্ষমতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা—এসবই শিক্ষার অংশ। তাই ছাত্রদের প্রতিবাদকে ‘অরাজকতা’ বলা উচিত নয় বলেই দাবি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের প্রতিবাদ গণতন্ত্রের ভাঙন নয়, বরং গণতন্ত্রেরই প্রকাশ। সেই সঙ্গে মণিপুর পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাজ্যে অশান্তি চললেও তা স্বীকার না করে নির্বাচনী ব্যস্ততায় সময় কাটানো হচ্ছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কি বললেন প্রধানমন্ত্রীর
ভোট প্রচারে বারুইপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেখানেই তাঁর মুখে শোনা যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। এই সভা থেকে মোদি অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ শোনা যায় মোদির মুখে। মোদি বলেন, “বিশ্ব জুড়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হত। জাতীয়তা বোধের সঙ্গেই এই ক্যাম্পাস তৈরি করা হয়।” তারপর তাঁর মুখে শোনা যায়, “কিন্তু আজ এখানের অবস্থা দেখুন, ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে। আর ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা ছেড়ে রাস্তায় আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা অরাজকতা চাই না, শিক্ষার পরিবেশ চাই। আমরা এখানে হুমকি নয়, শান্তি চাই। যে সরকার নিজের রাজ্যের সব থেকে বড় শিক্ষার কেন্দ্রকে বাঁচাতে পারে না, তারা পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতকে কী বাঁচবে? বাংলার যুবকদের ভবিষ্যৎ কী বাঁচবে?”
সব মিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে নরেন্দ্র মোদি ক্যাম্পাসে অরাজকতা ও দেশবিরোধী স্লোগানের অভিযোগ তুলে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার কথা বলেছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ছাত্রদের প্রতিবাদকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ বলেই দাবি করেছেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভিন্নভাবে তুলে ধরে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফলে নির্বাচনের আবহে এই ইস্যু ঘিরে রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে, এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের তরজা আগামী দিনেও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রে থাকতে পারে।
