Vinesh Chandel
Bengal Liberty ৩০ এপ্রিল:
বাংলায় ভোট মিটতেই কি তবে তদন্তের ঝাঁঝও কমে গেল? গত ১৩ এপ্রিল ঘটা করে যাঁকে কয়লা পাচার কাণ্ডের আর্থিক তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল ইডি, সেই আই-প্যাক (I-PAC) ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্ট থেকে জামিন পেলেন Vinesh Chandel। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে ইডি কয়েকদিন আগেও ভিনেশকে ‘প্রভাবশালী’ তকমা দিয়ে আটকে রাখতে চেয়েছিল, তারাই এদিন জামিনের বিরোধিতা না করে কার্যত ‘ক্লিন চিট’ দেওয়ার পথে হাঁটল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, তবে কি পর্দার আড়ালে কোনো বড়সড় সমঝোতা হয়ে গেল?

গ্রেফতারি ও গুরুতর অভিযোগের পাহাড় Vinesh Chandel
গত ১৩ এপ্রিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত কয়লা পাচার কাণ্ডের কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ ছিল। ইডি দাবি করেছিল, প্রায় ৫০ কোটি টাকার হিসেব বহির্ভূত লেনদেন এবং হাওয়ালা মারফত টাকা বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভিনেশের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তদন্তকারীদের নথিতে দাবি করা হয়েছিল, এই বিপুল অঙ্কের বেআইনি টাকার ভাগ ভিনেশের কাছেও পৌঁছেছে, যা নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
মায়ের অসুস্থতা ও আদালতের আগের অবস্থান
উল্লেখ্য জামিন পেতে এর আগেও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভিনেশ চান্ডেল। গত মঙ্গলবার তিনি অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করে জানিয়েছিলেন, তাঁর মা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং বাড়িতে দেখাশোনার কেউ নেই। কিন্তু সেই সময় আদালত তাঁর প্রভাবশালী পরিচয় এবং তদন্তের গুরুত্ব বিচার করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তবে এবার নিয়মিত জামিনের শুনানিতে পরিস্থিতি বদলে যায়।
ইডির ইউ-টার্ন ও তদন্তে সহযোগিতার দাবি
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সবথেকে বড় চমক ছিল ইডির অবস্থান। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চান্ডেলের জামিনের বিরোধিতা করেনি। ইডির পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, ভিনেশ চান্ডেল তদন্তে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করেছেন। যে ব্যক্তিকে আগে ‘প্রভাবশালী’ তকমা দিয়ে আটকে রাখতে চেয়েছিল ইডি, ভোট মিটতেই সেই ব্যক্তির প্রতি তদন্তকারীদের এই ‘নরম’ মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। উল্লেখ্য এই জামিন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল নেতা শান্তনু সিনহার দাবি, “ইডি যে বিজেপির রিমোট কন্ট্রোলে চলে, তা ফের প্রমাণিত। ভোটের সময় আমাদের ভোটকুশলীকে আটকে রেখে কাজ বিঘ্নিত করার চেষ্টা হয়েছিল। এখন কাজ শেষ, তাই ইডিও চুপ।” অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহার পাল্টা দাবি, “জামিন পাওয়া একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। তদন্তের সব তথ্য জোগাড় হয়ে গেছে বলেই হয়তো ইডি বিরোধিতা করেনি। এর সাথে রাজনীতির যোগ নেই।”
জামিনের নেপথ্যে আদালতের কড়া শর্তাবলী
যদিও ইডি এদিন জামিনের বিরোধিতা করেনি, তবুও আদালত ভিনেশ চান্ডেলের মুক্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন চান্ডেল মামলার কোনো তথ্য-প্রমাণ বিকৃত করতে পারবেন না এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনো সাক্ষীকে প্রভাবিত করা বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
জামিনের বিনিময়ে তাঁকে তাঁর পাসপোর্ট আদালতের জিম্মায় জমা রাখতে হবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে কোথাও বেরোতে পারবেন না। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলেও তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে তদন্তকারী আধিকারিকদের আগাম তথ্য প্রদান করতে হবে। বিচারক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, জেলের বাইরে থাকলেও তদন্তের স্বার্থে যখনই ডাকা হবে, তখনই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ও নথি প্রদান করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে তিনি বাধ্য থাকবেন। এই কঠোর বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়েই আপাতত কারামুক্ত হচ্ছেন এই প্রভাবশালী ভোটকুশলী।
