17 May in Bangladesh
17 May in Bangladesh

ঐতিহাসিক ১৭ মে(17 May in Bangladesh): আশার ফেরা, অন্ধকারের অবসান

Bengal Liberty, নয়ন বিশ্বাস রকি
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক:

সেই দিন, সেই সাল (17 May in Bangladesh)

১৭ মে ১৯৮১(17 May in Bangladesh) —এই তারিখটি শুধু ক্যালেন্ডারের একটি পাতা নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘোরানো এক ঐতিহাসিক দিন।

17 May in Bangladesh
17 May in Bangladesh

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, বিদেশে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এরপর শুরু হয় তাঁদের দীর্ঘ ৬ বছরের উদ্বাস্তু ও নির্বাসিত জীবন।

১৯৮১ সালের ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তৎকালীন সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু, নিষেধাজ্ঞা আর সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে অবশেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে, বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন।

জনসমুদ্রে ভাসা ঢাকা (17 May in Bangladesh)

সেদিন ঢাকা পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াও লাখ লাখ মানুষকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি।

কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত গোটা এলাকা রূপ নিয়েছিল এক জনসমুদ্রে। আকাশ-বাতাস কাঁপছিল একটিই স্লোগানে: “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”।

17 May in Bangladesh
17 May in Bangladesh

বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা বিমান থেকে মাটিতে পা রাখেন। জনতার সেই বাঁধভাঙা স্রোত ঠেলে তাঁর ট্রাকে উঠতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেছিলেন:

“সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি… বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি, আপনাদের বোন হিসেবে, কন্যা হিসেবে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে এসেছি।”

আবেগ: ফেরাটা শুধু ব্যক্তির নয়, আদর্শের (17 May in Bangladesh)

এটি শুধু শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল না; এটি ছিল মূলত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জন্ম। ১৫ আগস্টের পর বাঙালি জাতির ওপর যে ঘোর অমানিশা নেমে এসেছিল, যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টা চলছিল—ঠিক সেই ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার ফেরা ছিল এক নতুন আলোর রেখা।

17 May in Bangladesh
17 May in Bangladesh

সেদিন জনতার কণ্ঠ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধ্বনিত হয়েছিল—“হাসিনা তোমায় কথা দিলাম, পিতৃ হত্যার বদলা নেব।” সেই চাওয়াটি শুধু প্রতিশোধের ছিল না, সেটি ছিল মূলত আইনের শাসন, ন্যায়বিচার আর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার এক মহা শপথ।

১৭ মে-র ঐতিহাসিক তাৎপর্য (17 May in Bangladesh)

রাজনৈতিক নেতৃত্বের পুনর্জন্ম:

আওয়ামী লীগ যখন চরম নেতৃত্বসংকটে দিশাহারা, তখন শেখ হাসিনার আগমন দলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করে।

গণতন্ত্রের লড়াই: সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি।
নারী নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত: তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক ও প্রতিকূল রাজনৈতিক মাঠে একজন নারী হিসেবে তিনি অসীম সাহসের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

17 May in Bangladesh
17 May in Bangladesh

আজকের বাংলাদেশ: দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সেই লড়াইয়ের পথ ধরেই আজকের স্বাবলম্বী বাংলাদেশ, ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশের রূপরেখা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তব রূপ পেয়েছে। এই সবকিছুরই ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ১৯৮১ সালের ১৭ মে-র সেই সাহসী সিদ্ধান্তে।

আজকের প্রজন্মের কাছে বার্তা (17 May in Bangladesh)

একজন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আমি বলতে পারি, ১৭ মে শুধু ক্যালেন্ডার দেখে স্মরণ করার কোনো দিন নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক সুমহান শিক্ষার দিন। কীভাবে চরম সংকটে অবিচল থাকতে হয়, কীভাবে সমস্ত ভয়কে জয় করে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয়—তা এই দিনটি আমাদের শেখায়।

দেশরত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন ফিরে না এলে হয়তো আজকের বাংলাদেশের রূপালী গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো।
১৭ মে ১৯৮১—সেদিন শুধু একজন নেত্রী ফেরেননি, ফিরেছিল এ দেশের মানুষের হারিয়ে যাওয়া আশা, ফিরেছিল আমাদের বাংলাদেশ।

জয় বাংলা।

আরও পড়ুন:

হামে কাঁপছে বাংলাদেশ, প্রাণ গেল ৪৫১ শিশুর, প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্য পরিষেবা!

 

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury