Bengal Liberty : রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জেরে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আমেরিকা। তবে এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের আগেই তাতে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।দুর্গা পুজোর শুভ লগ্নে স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তে কিছুটা স্বস্তি পেল ভারত-সহ রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলি।
১৭ অক্টোবর ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে গত মাসে স্বাক্ষরিত ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা পেয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। ভারত ও চিনের মতো দেশগুলি এই পদক্ষেপের আওতায় পড়তে পারত। কিন্তু নতুন নির্বাহী আদেশে সেই আইনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
কেন এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের চাপ এই সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকাতেও জ্বালানির খরচ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের উপর কড়া বিধিনিষেধ কার্যকর হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
আরও খবর
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল কেনার ফলে দেশের জ্বালানি আমদানির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পেয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু এই বাণিজ্যকে কেন্দ্র করেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তি মিললেও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম—এই সমস্ত বিষয় আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


