Prabir Mukherjee
Bengal Liberty, ২৫ মে :
“নিজের পৈতৃক ভিটেটুকু তুলে দিয়েছিলাম প্রোমোটারের হাতে, কথা ছিল একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলবে। কিন্তু ফ্ল্যাট তো মেলেইনি, উল্টে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করা হচ্ছে, আর জুটছে লাগাতার হুমকি!” চোখেমুখে চরম হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলেন ভবানীপুরের অশীতিপর বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায় (Prabir Mukherjee)। শেষ বয়সে এসে স্ত্রীর হাত ধরে ভাড়াবাড়িতে দিন কাটানো এই বৃদ্ধ এখন সুবিচারের আশায় কড়া নেড়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দরজায়। শহর কলকাতার বুকে জমি মাফিয়াদের দাপট আর প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে সাধারণ মানুষের অসহায়তার এক প্রতিচ্ছবি ফের ফুটে উঠল এই ঘটনায় (Prabir Mukherjee)।

জমি হাঙরদের চক্রে সর্বস্বান্ত অশীতিপর বৃদ্ধ (Prabir Mukherjee)
স্বপ্ন ছিল জীবনের শেষ কটা দিন পৈতৃক ভিটেতে তৈরি নতুন ফ্ল্যাটে শান্তিতে কাটাবেন। সেই আশায় প্রোমোটার জয় কামদারের হাতে নিজের জমি তুলে দিয়েছিলেন ৮১ বছর বয়সি প্রবীরবাবু। কিন্তু চুক্তিমতো ফ্ল্যাট দেওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে ফ্ল্যাট না চাওয়ার জন্য ওই বৃদ্ধকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হত বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, এই চক্রের সঙ্গে প্রোমোটার জয় কামদার ছাড়াও যুক্ত রয়েছে সোনা পাপ্পু এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। শুধু তাই নয়, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের বদলে বৃদ্ধের কাছে আরও ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে বাধ্য হয়েই স্ত্রীকে নিয়ে এক ভাড়াবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতারিত এই বৃদ্ধ। উল্লেখ্য, এই সোনা পাপ্পুকে ইতিমধ্যেই টানা ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর জমি দখলের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভয় দেখিয়ে জমি হাতানোর এই চক্রে জয় কামদার ও শান্তনুর হয়েই কাজ করত পাপ্পু।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আশার আলো (Prabir Mukherjee)
প্রশাসনের নিচুতলায় ধাক্কা খেয়ে অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন প্রবীরবাবু। সোমবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রীর সাপ্তাহিক কর্মসূচি ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়ে নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মনোযোগ সহকারে তাঁর সমস্ত অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর চোখে কিছুটা আশার আলো দেখেছেন প্রবীরবাবু। তিনি বলেন, “আশ্বস্ত হলাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সমস্যার সমাধান করবেন।” এদিনের এই দরবারে প্রবীরবাবুর মতো জমি প্রতারণার শিকার হওয়া মানুষের পাশাপাশি, যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি ফেরানোর আর্জি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ২৬ হাজার চাকরিহারাদের প্রতিনিধিরাও।


