CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ২৬ মে :
রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়কে সামনে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি নয়, সারা বছর গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে চায় সরকার। কেন্দ্রের বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি রাজ্যে স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জনকল্যাণ এবং আয়ুষ খাতে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি থেকে জনকল্যাণ শিবির, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন একাধিক পদক্ষেপে নতুন প্রশাসনের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে CM Suvendu Adhikari)।

‘ডবল ইঞ্জিন’-এর সুফল পৌঁছে দিতে উদ্যোগ (CM Suvendu Adhikari)
সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও উন্নয়নের প্রশ্নে সব নির্বাচিত প্রতিনিধিকে মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই এদিনের বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়কদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক লড়াই চলবে, কিন্তু বাকি সময়টা মানুষের স্বার্থে গঠনমূলক কাজেই জোর দেওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই প্রশাসনকে সক্রিয় করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই জুন মাস জুড়ে একাধিক জনমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও রাজ্যের প্রকল্প, দুয়ের সুবিধাই যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পান, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জুন মাস জুড়ে একাধিক কর্মসূচি (CM Suvendu Adhikari)
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ জুন থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হচ্ছে ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি। কেন্দ্র সরকারের এই জাতীয় উদ্যোগে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সমস্ত ব্লক, পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় মায়ের নামে একটি করে গাছ লাগানোর কর্মসূচি হবে। অরণ্য ও পরিবেশ দপ্তরের তরফে ফলের গাছ দেওয়া হবে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে এবং বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হবে।
এছাড়াও ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন রাজ্য জুড়ে আয়োজন করা হবে ‘জনকল্যাণ শিবির’। ভারত সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এই শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের চলতি এবং আসন্ন সমস্ত প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হবে। প্রশাসনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্কুলে এই শিবির না হয় এবং পড়াশোনায় কোনও ব্যাঘাত না ঘটে। বিডিও, পুরসভার সিও এবং কর্পোরেশনের কমিশনারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোটা কর্মসূচি পরিচালনার। স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদরা সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

স্বাস্থ্যখাতে বড় রদবদলের ইঙ্গিত (CM Suvendu Adhikari)
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং ক্রীড়া দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে রাজ্য জুড়ে যোগ দিবস পালন করা হবে। পুলিশ, স্কুল, এনসিসি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্লাবগুলিকেও এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনেই যোগাভ্যাস করতে হবে এবং শুধুমাত্র প্রচারের উদ্দেশ্যে যেন কেউ অংশগ্রহণ না করেন।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। বর্তমানে স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা আয়ুষ বিভাগকে আলাদা করে স্বতন্ত্র আয়ুষ মন্ত্রক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, গোটা দেশে আয়ুষ খাতে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। সমন্বয় বৈঠকে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রি-মনসুন প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে আয়ুষ্মান ভারতে রূপান্তর এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় রূপান্তরের কাজ দ্রুত শুরু করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


