Kakoli Ghosh Dastidar
Bengal Liberty, ২৭ মে :
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসিকে চিঠি লিখে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্ত দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ, সংগঠনের অন্দরে অসন্তোষ এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ, সব মিলিয়ে কাকলির এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল (Kakoli Ghosh Dastidar)।

জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার পরই বাড়ে জল্পনা (Kakoli Ghosh Dastidar)
গত রবিবার বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দল দ্রুত সেই পদে তাপস চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়। সূত্রের খবর, এত দ্রুত সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সাংসদের অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যেই দলের অলিখিত নির্দেশ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হন কাকলি। সেই বৈঠকের পরেই সমস্ত সাংগঠনিক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ফলে তাঁর এই পদক্ষেপকে শুধুমাত্র সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং দলের সঙ্গে সম্পর্কের প্রকাশ্য দূরত্ব হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁকে সরিয়ে ফের সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপর থেকেই দলের অন্দরে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে বলে সূত্রের দাবি।

নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত (Kakoli Ghosh Dastidar)
পদত্যাগের নেপথ্যে একাধিক কারণ উঠে আসছে রাজনৈতিক মহলে। জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সময় কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে নিজের এলাকায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায়িত্ব নিয়েই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে এর পাশাপাশি তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। কাকলির অভিযোগ ছিল, সংগঠনের ভিতরে বাইরের সংস্থার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপে দলের স্বাভাবিক সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, শুধু নৈতিক দায় নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেকে ক্রমশ কোণঠাসা মনে করছিলেন তিনি। শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে মতপার্থক্যও সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনবারের সাংসদের এই পদত্যাগে বারাসতের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর এই দূরত্ব ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়ায়।


