Sovan Deb Chatterjee
Bengal Liberty, ২৭ মে :
রাজ্যে পালাবদলের পর কেটে গেছে অনেকগুলো দিন। প্রধান বিরোধী দলের আসন লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Sovan Deb Chatterjee)। ফলাফল ঘোষণার ২০ দিনেরও বেশি সময় কেটে গেলেও বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে লালবাতির গাড়ি পেলেও বিধানসভায় বসার জন্য এখনও নির্দিষ্ট কোনও ঘর পাননি তিনি। এত জটিলতার মধ্যেই আরও এক ধাক্কা খেলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক। এবার বিধানসভার উদ্যোগ অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে দেখা করতে গেলেও নিরাশ হয়ে ফিরতে হলো বর্তমান বিরোধী দলনেতাকে। তাঁর সাথ ছিলেন তৃণমূলে দাপুটে নেতা কুণাল ঘোষ। রথীন্দ্র বসুর ঘরের বাইরেই দাঁড়িয়ে রইলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovan Deb Chatterjee), কিন্তু দেখা করলেন না অধ্যক্ষ।

একের পর এক জটিলতার সম্মুখীন শোভনদেব (Sovan Deb Chatterjee)
বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও পদ্ধতিগত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা চিঠি বিধানসভার সচিবালয় খারিজ করে দেওয়ার পর, রীতি মেনে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি জমা দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ঘর না মেলায় স্পিকারের ঘরের সামনে ধরনাতেও বসেন ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়করা। অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে লালবাতির গাড়ি পেলেও বিধানসভায় বসার জন্য নির্দিষ্ট কোনও ঘর এখনও পাননি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকায় বাধ্য হয়ে সব দলের সাধারণ বিধায়কদের ঘরেই দলীয় কর্মীদের সাথে বসতে হচ্ছে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা।

চিঠি পাঠিয়েও কেন স্বীকৃতি পেল না বিরোধী দলনেতা? (Sovan Deb Chatterjee)
তৃণমূল সূত্রে খবর, স্পিকার অফিসে না থাকায়, সেই চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসকে। চিঠি দেওয়ার প্রায় পাঁচ দিন পরেও বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাকে কোনও সরাসরি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ এই অশীতিপর রাজনীতিকের।তবে স্পিকারের দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, তৃণমূল পরিষদীয় দল একটি চিঠি দিয়ে বিধানসভার সচিবালয়ে তাদের দলনেতার নাম জানিয়েছে। কিন্তু পাল্টা চিঠি দিয়ে বিধানসভার সচিবালয় জানিয়েছেন, তৃণমূল পরিষদীয় দলের যে বৈঠকে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রস্তাবে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত পত্রটি পাঠানো হোক।

প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাছে ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও নানা অছিলায় তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি বাধ্য হয়ে আরটিআই করেছি। সেখানে আমি জানতে চেয়েছি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ক্ষেত্রে কি নিয়ম অনুসরণ করেছিল সচিবালয়?”

