Census Meeting
Bengal Liberty, ২৮ মে :
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরই দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা জনগণনা প্রক্রিয়ার পালে ফের হওয়া লাগানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের নব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Census Meeting)। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই জনগণনার কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তব রূপ দিতেই এবার উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। আগামীকাল, ২৯ মে, শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠকে জনগণনার সামগ্রিক রূপরেখা, কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Census Meeting)।

প্রশাসনিক স্তরে জোর প্রস্তুতি (Census Meeting)
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, জনগণনার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের দায়িত্ব বণ্টন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। জেলা স্তরে ডিভিশনাল কমিশনার, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, বিডিও এবং জয়েন্ট বিডিওদের উপর জনগণনার অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শহর ও পুরসভা এলাকায় কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং সমমর্যাদার আধিকারিকদেরও এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক চলতি বছর দেশজুড়ে জনগণনার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে প্রাথমিক পর্বের কাজও শুরু হয়ে গেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকার জনগণনা সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি বলেই রাজ্যে সেন্সাসের কাজ পিছিয়ে যায়। নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত জনগণনার কাজ সম্পন্ন করতে তৎপর হয়েছে বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

তৃণমূল স্তরের কর্মীদের উপরেই ভরসা প্রশাসনের (Census Meeting)
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে গতি আনাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জনগণনা প্রক্রিয়াও। কারণ প্রশাসনিক পরিকল্পনা থেকে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি কিংবা সরকারি পরিষেবা বণ্টন, সব ক্ষেত্রেই জনগণনার নির্ভুল তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। তাই দ্রুত ও সঠিক ভাবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। প্রশাসনিক মহলের মতে, জনগণনার মতো বৃহৎ প্রক্রিয়া মূলত তৃণমূল স্তরের সরকারি কর্মচারীদের উপর নির্ভর করেই পরিচালিত হয়। অতীতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন যেভাবে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মীদের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল, এবারও সেই মডেল অনুসরণ করা হতে পারে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের জনগণনার কাজে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।


