Samik Bhattacharya
Bengal Liberty, ৩০ মে :
রাজ্যে পালাবদলের পরই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না (Samik Bhattacharya)। এ ধরনের ঘটনায় যাঁরা জড়িত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে। এরই মধ্যে শনিবার সোনারপুরে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং ঘটনাস্থলে ‘চোর, চোর’ স্লোগানও ওঠে। এই ঘটনার জন্য তৃণমূলের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “এই ঘটনার সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও জনরোষের বহিঃপ্রকাশ।” পাশাপাশি তিনি পূর্বতন সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসা ও বিরোধীদের উপর আক্রমণের ঘটনাগুলির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন (Samik Bhattacharya)।

কী কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য? (Samik Bhattacharya)
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, “আজ বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে বলেই তৃণমূলের নেতারা নিরাপদে রয়েছেন। গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষ, আমাদের জেলা সভাপতি এবং অসংখ্য দলীয় কর্মীর উপর যে ধরনের অত্যাচার হয়েছে, তার পরেও আমরা সংযম দেখিয়েছি। অন্য কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলে তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদদের পক্ষে হয়তো আজ সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখাও সম্ভব হত না।” এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুল প্রচারিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কেও কটাক্ষ করেন শমীক। তাঁর প্রশ্ন, “কীসের ডায়মন্ড হারবার মডেল? যদি এত উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে ফলতায় প্রচারে যেতে হল না কেন?” তবে রাজনৈতিক তরজা ও বিক্ষোভের আবহের মধ্যেও শান্তির বার্তাই দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সকল পক্ষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি এখনও বলছি, হিংসার পথ পরিত্যাগ করুন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে দিতে হবে।”

প্রসঙ্গত, আজ, শনিবার সোনারপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাইকে চেপে নিহত কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিষেককে লক্ষ্য করে ধেয়ে এলো ডিম, জুতো ও চড়-থাপ্পড়। অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে ক্রিকেট হেলমেট পরে এগোতে দেখা যায় তাঁকে। এরপর একই পোশাকে তিনি নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

