Stop rape
সুনির্মল বোস, Bengal Liberty: দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজে আবার এক ডাক্তারি পড়ুয়া ধর্ষিতা হলেন। নিত্যদিন যেন এ রাজ্যে এই ধর্ষণের সিলসিলা নিয়মিত বেড়েই চলছে। NCRB এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এ রাজ্য নাকি মহিলাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। তার মানে দেশের অন্য রাজ্যগুলোতে আরও ভয়ঙ্কর অবস্থা। ধর্ষণ বা গণধর্ষণ আমাদের কাছে খুবই পীড়াদায়ক এবং ভয়ঙ্কর ধাক্কা।

ধর্ষণের নেপথ্য কারণ কী? (Stop rape)
যত বেশি আলোচনা হচ্ছে , তত বেশি প্রতিবাদ হচ্ছে। অন্যদিকে আরও যেন বেড়ে যাচ্ছে এধরণের নক্করজনক ঘটনা। অর্থাৎ এখানেই স্পষ্ট, ধর্ষণের ঘটনা এখন পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রকল্প।
মজা টা হচ্ছে এই বিষয়টি আমাদের কাছে অজানা ছিল বা একটু চিন্তাশীল মানুষদের কাছে অজানা ছিল এমনটা নয়। সারা পৃথিবীতেই প্রত্যেকটি দেশে ফ্যাসিবাদী সরকার এই নিষ্পেষণ করছে। এবং, এখন এগুলো একটা রাজনৈতিক যুদ্ধের অঙ্গ। মহিলাদের ওপর নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নামানো হচ্ছে।
যেমন গাজায় মহিলা ও শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যা, ইউক্রেনে মহিলাদের ওপর নির্যাতন, আফ্রিকাতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী অন্য জনগোষ্ঠীর ওপরে ধর্ষণ করেই চলেছে একই কায়দায়। যে কায়দায় ভারতে দলিত ও আদিবাসী মহিলাদের ওপরে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে গণহত্যা করানো হয়। উত্তরপূর্ব ভারত ও লেহ লাদাখের ও কাশ্মীরে মহিলাদের ওপরে গণহত্যা এখন এক নিত্য ব্যাপার। এই নির্যাতন এখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হচ্ছে। কম ক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর ওপরে সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর একটা সামগ্রিক সামূহিক ভয় ধরিয়ে দিয়ে তাদের নিশ্চুপ করে দেওয়া। এবং তাদের বাসস্থান ও অঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করে delegitimization ও marginalize করাই উদ্দেশ্য। ভারতের মতো মিশ্র জনগোষ্ঠীর দেশে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর মহিলাদের গণধর্ষণ করলে সেই জনগোষ্ঠীর প্রতিবাদের মেরুদন্ড ভাঙা যাবে।
সুতরাং ধর্ষণ মোটেই এখন শুধু মহিলাদের ওপর শোষণ করা নয়। একটা জাতি বা জনগোষ্ঠীর ওপর চরম আক্রমণ নামিয়ে আনার সবচেয়ে সহজ পথ। এটাই হাজরা আইন কলেজ বা আরজিকর আজকের দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজের ঘটনার পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে প্রতি মুহূর্তে হচ্ছে। খবর হচ্ছে না।এই রাজ্যে খবর হচ্ছে। অধিষ্ঠিত রাজ্য সরকার খুব একটা চিন্তিত নয়। কয়েকটি পরিচিত দালাল সম্প্রচার মাধ্যমে একটু গরম গরম আওয়াজ তোলা ছাড়া। যারা এই আওয়াজ তুলছে, তাদের চুপ করানোর জন্য আরেক দল অন্য রাজ্যের দিকে নজর ঘুরিয়ে দিচ্ছে। যাতে নিজেদের ধর্ষণ কান্ডকে জাস্টিফাই করা যায়। ইংরেজিতে একে whataboutism বা “তার বেলা বাদ” বলা যেতে পারে।
ধর্ষণের চরম শাস্তি মোটেই মৃত্যুদণ্ড নয়। দোষীকে দিবালোকে জনসমক্ষে সমাজবিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আর ব্যক্তি ধর্ষকের থেকে আরও ভয়ঙ্কর ধর্ষণকে( হাথরাস, উন্নাও, বিলকিস বানো ) রাজনৈতিক ও সামাজিক যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করে, পাল্টা জনযুদ্ধে পরিণত করাটাই একমাত্র প্রতিরোধের রাস্তা।
