TMC expels 2 MLAs
Bengal Liberty, ৩০ মে,কলকাতা: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা বাছার রেজুলেশনে নিজেদের দলেরই বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আর এই জালিয়াতির পর্দা ফাঁস করে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানাতেই কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হলো তৃণমূলের দুই বিধায়ককে।দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস।
দলবিরোধী কাজের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ (TMC expels 2 MLAs)
তৃণমূল কংগ্রেসের অল ইন্ডিয়া কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং বেলগাছিয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের কড়া নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। দলের পক্ষে জানানো হয়েছে, দলীয় টিকিটে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বারবার গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন এবং দলের স্বার্থের পরিপন্থী বক্তব্য রেখেছেন। স্পিড পোস্ট, ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই বহিষ্কারের নোটিশ তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে কী ছিল? (TMC expels 2 MLAs)
মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে এই গোটা কেলেঙ্কারির বিশদ বিবরণ দেন। তিনি জানান, গত ২০ মে তৃণমূলের তরফে ৭০ জন বিধায়কের সই করা একটি রেজুলেশনের কপি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু গত ২৭ মে তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, ৬ মে এমন কোনো রেজুলেশন পাসই হয়নি এবং পাঠানো তালিকায় অন্তত ১৪ জনের নাম করল ব্লক লেটারে লেখা রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও তৈরি করা।

সিআইডি তদন্তে ৩ বিধায়কের স্বীকারোক্তি (TMC expels 2 MLAs)
এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকারের নির্দেশে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করা হয় এবং পুলিশ মন্ত্রীর অনুমোদনে মামলাটি সিআইডি-র হাতে যায়। শুভেন্দু অধিকারী জানান, সিআইডি ইতিমধ্যেই ১৩ জন বিধায়কের বয়ান ও সই ভেরিফিকেশন করেছে। তার মধ্যে ৩ জন বিধায়ক— বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায় এবং সুভাশিষ দাস অন-ক্যামেরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ওই রেজুলেশন বুকে থাকা সই তাঁদের নয়!

“চোরেদের পাঠশালা”, কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর (TMC expels 2 MLAs)
মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “হেরে যাওয়ার পরেও এদের চুরির অভ্যাস কাটেনি। নিজের দলের এমএলএ-দের সই পর্যন্ত জাল করছে! অভিযোগ তো বিজেপি বা স্পিকার করেনি, ওদের নিজেদের দলের বিধায়করাই ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে সত্যিটা সামনে এনেছে।” আর সত্যি কথা বলার অপরাধেই যে সন্দীপন ও ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার হতে হলো, তা রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী এই জালিয়াতি ও তঞ্চকতার বিরুদ্ধে সিআইডি অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

