nobel prize
Bengal liberty: ১৮৯৫ সাল থেকে আলফ্রেড নোবেল সাহেবের ২৫ কোটি ডলার অনুদান থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। তিনি এই সম্পদ জোগাড় করেন ডিনামাইট আবিষ্কার করে ও তা বিক্রি করে। অর্থাৎ এই অর্থ আসে গণ ধ্বংসকারী অস্ত্র বেচে। এর ইংরেজি নাম Weapon of Mass Destruction। জন্মলগ্ন থেকেই নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে ধ্বংসকান্ড জড়িত। বহু স্বনামধন্য ব্যক্তি তাই বিভিন্ন কারণে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনেককে আবার তাদের দেশের সরকার পুরস্কার গ্রহণ করতে দেয় নি। অর্থাৎ রাজনৈতিক বিরোধীদের নোবেল গ্রহণ করতে বাধা দেওয়া হয়। এই সরকারগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের সরকার আছে। ১৯০১ সাল থেকে নোবেল সাহেবের অনুরোধে নরওয়ের হাত দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হতে থাকে। যদিও নিজে নোবেল সাহেব সুইডেনএ বাসিন্দা এবং তাঁর জন্ম সুইডেনের হয়েছিল। তা সে যাই হোক, প্রথম থেকেই এই শান্তির পুরস্কার খুব পরিষ্কার ভাবেই পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষাকারীদেরই প্রদান করা হয়েছিল। খুব টেনেটুনে বলতে গেলে হয়তো প্রথম দিককার কয়েকজন কে চেষ্টা করে এই অভিধা বা উদ্দেশ্যের বাইরে রাখা গেলেও যেতে পারে। যত দিন গড়ালো এই রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাপ ক্রমশ প্রকট থেকে প্রকটতর হতে শুরু করেছে। এবারে তো খোলাখুলি ট্রাম্প দুনিয়ার যুদ্ধবাজদের দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিজে নোবেল জয়ে মুখিয়ে ছিল। এমনকি নরওয়েকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ধমক চমক দিয়ে বলেছিল, ইউরোপ ও নরওয়েকে দেখে নেবে সে। নিরপেক্ষতার মুখোশ পড়ার দরকার এখনও আছে। তাই সরাসরি ট্রাম্পকে না দিয়ে তার একেবারে বশংবদ অনুচরকে দেওয়া হল। ঘোষণামাত্র মহিলা এই পুরস্কার ট্রাম্প কে নিবেদন করল, অর্থ হয়তো উৎসর্গ করেনি (কারণ ট্রাম্পের ওই খুচরো অর্থের কোনো প্রয়োজন নেই )।কিন্তু গ্রহণের আগেই, পুরস্কার “উৎসর্গ” করল সেই ট্রাম্পকেই। ব্যাপার খুব পরিষ্কার। সাপও মরল , লাঠিটাও ভাঙলো না। পুরস্কার ট্রাম্পই পেল।পেন্টাগন বোঝালো যে এটাই রাজকীয় নিষ্ক্রমণের পথ বা royal exit route।
এই মহিল কে দিয়ে কিছুটা কাঁদিয়ে , উদ্বেগ করিয়ে এক নাটক করানো হল (সবই আগে থেকে বানানো )। আর এক নয়া নাটক করান হল। বেনেতজুয়েলাকে মার্কিন সামরিক রণতরী দিয়ে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করেছে। দেশটিকে সবদিক থেকে ঘিরে ধরে সবরকম প্রক্রিয়ায় সব দিক থেকে না খাইয়ে মেরে অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ করিয়ে গণহত্যা বা জেনোসাইড করার পরামর্শ দিয়েছিল। ট্রাম্পের অর্থানুকূল্যে বেনেটজুয়েলার বামপন্থী জনপ্রিয় সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে, প্রচুর টাকা ছড়িয়ে (গো হারা হেরে যদিও) একটা বিরোধী সত্তা দেখিয়ে মার্কিন দালালি করেই চলেছে। এখন নাকি সে অজ্ঞাতবাসে আছে অথচ নোবেল মুখপাত্র সহজেই তাকে ফোনে যোগাযোগ করে খবরটা পরিবেশন করে ফেলেছে। তার রেকর্ডিং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েও দিতে পেরেছে। যাই হোক মার্কিন রাষ্ট্র এবং মার্কিন সামরিক পেন্টাগন ও সিআইএ পাশে থাকলে সব কিছুই সম্ভব। এই ব্যক্তি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল। আজকে ট্রাম্প যখন আবার ইঙ্গ-মার্কিন একমেরুর বিশ্ব বানানোর পরিকল্পনা করছে , যখন ফ্যাসিবাদকে বিশ্বরাজনৈতিক প্রকল্প হিসেবে নয়া উপনিবেশ বানানোর উৎসবে মেতেছে। যুদ্ধবাজরাই এই বিশ্বফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনায় শান্তির দূত হবে তাতে আর আশ্চর্য্যের কি আছে? এই ব্যবস্থায় যুদ্ধবাজরাই আজকের ‘শান্তি’র প্রতীক বা আইকন। এদের হাতেই সমস্ত সম্পদ যা তারা অস্ত্র বা সামরিক তাকত দিয়ে রক্ষা করবে , এটাই dialectics বা দ্বন্দ্ব। যা সাদা চোখে দেখা যাবে বা দেখানো হবে ঠিক তার উল্টোটাতেই বাস্তবতা বা actualite লুকিয়ে আছে। রিয়ালিটি তো প্রেক্ষিত আর ব্যাক্তিবিশ্বাস নির্ভর। যা কেউ দেখতে চায়, সেটাই সে দেখে বা লোককে দেখাবে। অর্থাৎ রিয়ালিটি প্রকৃত পক্ষে ভার্চুয়ালিটি। কিন্তু বাস্তব তথ্য বা ফ্যাক্ট ভিন্ন বস্তু। খুঁজতে গেলে যা বোঝানো বা দেখানো হচ্ছে তা উল্টে দেখতে হবে। আজকের উত্তরাধুনিক যুগে এই অভিজ্ঞান খুবই সুপরিচিত , সুবিদিত এবং বহুচর্চিত, এখন আর তা বিতর্কিতও নয়। যাই হোক নোবেল ‘যুদ্ধ’ পুরস্কার কিছু ‘ধ্বংসচিন্তক’ , মানবতাবিরোধীকেই প্রদান করাটাই পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের নব কর্মকৌশল। ট্রাম্পের এই অনুচর মহিলা সবচেয়ে বড়ো রক্তখেকো গণহত্যাকারী নোবেল কমিটিকে সুপারিশ পাঠায় ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্যে। নোবেল কমিটি অনেক চালাক , তারা কাজটি করে কিন্তু ঘুরিয়ে। ঘুরিয়ে কাজ সম্পন্ন করা বিশ্বের সমস্ত নব্য ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর কাছে এখন এক সাধারণ কর্মকৌশল যা এখন কর্মনীতিতে পরিণত
যতদিন না মানুষ নোবেল ‘শান্তিকে’ নোবেল ‘যুদ্ধ’ পরিষ্কার হিসেবে ঘোষণা না করবে ততদিন আমরা মূর্খ থেকে মূর্খতর হতেই থাকব। বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।
