Government property
Bengal Liberty:
কুলতলির পর এবার সরকারি সম্পত্তি লোপাটের আরও এক বড়সড় পর্দাফাঁস হলো ডায়মন্ড হারবারে (Government property)। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ শত শত সরকারি ত্রিপল, জলের কল এবং পাইপ একটি ব্যক্তিগত গুদাম বা গোডাউন থেকে উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা এই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী বছরের পর বছর ধরে কেন এবং কার স্বার্থে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তালা ভেঙে উদ্ধার বিপুল সামগ্রী, ঘটনাস্থলে পুলিশ Government property
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজার সংলগ্ন ‘হোটেল এমবি’-র পাশে একটি বন্ধ গুদামে এই সমস্ত সরকারি জিনিসপত্র লুকিয়ে রাখা ছিল। এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে গোপন তথ্য পেয়ে আজ ডায়মন্ড হারবার টাউন বিজেপির নেতা-কর্মীরা ওই গুদামের পুরনো তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে থরে থরে সাজানো সরকারি ত্রিপল ও জলের পাইপ দেখে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত সরকারি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
অভিযোগের তির প্রাক্তন যুব তৃণমূল সভাপতির দিকে
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্নীতির মূল অভিযোগ উঠেছে ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন যুব তৃণমূল সভাপতি তথা মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গৌতম অধিকারীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জনগণের ব্যবহারের জন্য আসা এই বিপুল সরকারি সম্পত্তি কীভাবে একজন নেতার ব্যক্তিগত নজরদারিতে থাকা গুদামে বছরের পর বছর পড়ে রইল, তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৬ সালে গৌতম অধিকারী এই হোটেলটি লিজে নিয়েছিলেন। তারপর থেকেই সেখানে নানা ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চলত। তবে বর্তমানে তিনি আর এই হোটেলের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তের দাবিতে সরব স্থানীয় মানুষ
এই বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল ও নিকাশির পাইপ কোন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল এবং কেন তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাল না, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। এর পেছনে বড় কোনো ত্রাণ দুর্নীতি বা সরকারি অর্থ লোপাটের বড় সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারবাসী। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, শুধু জিনিসপত্র উদ্ধার করলেই হবে না, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অপরাধে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক মদতদাতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

