Mamata Banarjee
Bengal Liberty, ১০ জুন :
২৮ বছর আগে কংগ্রেসের বুক চিঁড়ে তৃণমূল কংগ্রেস বানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banarjee)। ফের আবার কংগ্রেসে ফিরছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গী ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ বছর পর কি তাহলে ইতিহাসের বৃত্তপূরণ হতে চলেছে? সম্প্রতি সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বৈঠকের পরই তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অপরদিকে রাহুল গান্ধী দলের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অতঃপর কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হতে চলেছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। পাশপাশি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banarjee)।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি (Mamata Banarjee)
কথায় বলে ইতিহাস যেন বার বার ফিরে ফিরে আসে, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি দিল্লির অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির হাত ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গড়ে তুলেছিলেন ‘তৃণমূল কংগ্রেস’। লক্ষ্য ছিল, বাংলায় বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় প্রথমে বামে সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল তারপর বাংলার ক্ষমতা দখল করে বাংলার মসনদে বসেছিলেন দীর্ঘ ১৫ বছর। কিন্তু সাম্প্রতিক জাতীয় প্রেক্ষাপট বলছে, ইতিহাসের চাকা হয়তো আবার উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে। দিল্লির অলিন্দে এখন একটাই গুঞ্জন, তৃণমূল কি তবে ফের মিশে যেতে চলেছে কংগ্রেসে?

অভ্যন্তরীণ সংকটে “হাত”-এর অফার (Mamata Banarjee)
মমতা ও অভিষেকের কংগ্রেসে যাওয়ার পেছনে রয়েছে পরপর ২ দিনের দুটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক। সূত্রের খবর, সম্প্রতি ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক দীর্ঘ একান্ত বৈঠক হয়। আর তার ঠিক পরদিনই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের এই বৈঠকের পরই জল্পনা শুরু হয়, মমতাকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি এবং অভিষেককে দলের সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তৃণমূলের একাংশ দাবি করত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো দূরদর্শিতা রাখেন। ক্ষমতা পেয়েও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার পর লক্ষ্য ভেদ করতেই কি সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? নিজের দল তৃণমূল সর্বভারতীয় তকমা হারাতেই তিনি কংগ্রেসের হাত ধরে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়ছেন?
অনেকে মনে করছেন এই সমীকরণের পেছনে রয়েছে তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্ব , দলের একটি বড় অংশ, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ক রয়েছেন, আলাদা ব্লক তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন । এই গৃহযুদ্ধ ও আইনি জটিলতা এড়াতেই কি তবে কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ? একসময় যে কংগ্রেসের জমিদারি মানসিকতা নিয়ে দিনরাত কটাক্ষ করতেন তৃণমূল নেতৃত্ব, কিংবা ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে কংগ্রেসকে এড়িয়ে যে ‘জিঞ্জার’ গোষ্ঠী গঠনের চেষ্টা হয়েছিল, আজ সেই কংগ্রেসের হাতকেই খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা।


