NCPI
Bengal Liberty
তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় ভাঙন এবার এক নাটকীয় মোড় নিল (NCPI)। লোকসভায় আলাদা ব্লক গঠনের পরিকল্পনা ত্যাগ করে সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ হিসেবে নয়, বরং একটি পৃথক রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় জড়ো হতে চলেছেন তারা।

তৃণমূল ছেড়ে ভিন্ন দলে যোগদান NCPI
রবিবার দিল্লিতে দিনভর একাধিক বৈঠক ও টানটান রাজনৈতিক তৎপরতার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। জানা গেছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ মোট ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তারা স্পিকারকে জানান, তারা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) নামের একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ত্রিপুরাভিত্তিক এই দলটি ২০২২ সাল থেকে একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল
কমিশনের ওয়েবসাইটে দলটির নাম সংক্ষেপে ‘এনসিপিআই’ (বা এনসিপিএন) হিসেবে নথিভুক্ত। রাজনৈতিক মহলে এই দলের তেমন কোনো পরিচিতি না থাকলেও, সাংসদ পদ বাঁচাতে বিদ্রোহী শিবির এই প্ল্যাটফর্মকেই বেছে নিয়েছে। এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে চিঠি দিয়ে দলত্যাগ বিরোধী আইনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু একসঙ্গে ২০ জন সাংসদ নতুন দলে যোগ দেওয়ায় সেই আইনকে তারা কার্যত এড়িয়ে গেলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রথমদিকে জল্পনা ছিল, বিদ্রোহী সাংসদরা তৃণমূলের ভেতরেই একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক গঠন করে লোকসভায় আলাদা আসনের দাবি জানাবেন। কিন্তু আইনি জটিলতা এড়াতে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে তারা এই নতুন পথ বেছে নিলেন।
লক্ষ্য এনডিএ-কে সমর্থন
নতুন দলে যোগ দিলেও এই বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটকেই সমর্থন করবেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যাচ্ছে। তৃণমূলের এই বড়সড় ভাঙন এবং বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল।


