Abhishek Banerjee
Bengal Liberty, ১৫ জুন: আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সপ্তাহের প্রথম দিন, সোমবার সকাল ১০টা ৫৭ মিনিট নাগাদ কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, মূলত ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের উৎস জানতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। ইডি সূত্রের দাবি, এই কোম্পানির মাধ্যমে কেবল প্যাকেজড পানীয় জলের ব্যবসাই হতো না, পাশাপাশি শেয়ার ট্রেডিংয়ের কাজও চলত। অভিযোগ, এই কোম্পানি থেকে শেয়ার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অন্য একটি সংস্থায় স্থানান্তরিত করে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করা হতো। এই নির্দিষ্ট বিষয়েই বর্তমানে তৃণমূল সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

নিয়োগ দুর্নীতির টাকা ঘুরপথে সাদা করার অভিযোগ, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Abhishek Banerjee)
উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে ইতিপূর্বেই একাধিক শাসকদলীয় নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়ককে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই তদন্ত চলাকালীনই প্রথম ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কোম্পানির নাম সামনে আসে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় এই কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে তিনি ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কোম্পানির সিইও (CEO) হন।

ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির অর্থ এই কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এসে থাকতে পারে—এমন কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এই মামলার সূত্র ধরেই এর আগে ওই কোম্পানির অন্যতম কর্মী সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’-কে গ্রেপ্তার করেছে ইডি।

নিয়োগ দুর্নীতির বেআইনি টাকা এই কোম্পানির হাত ঘুরে বাজারে সাদা করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। এই শেয়ার ট্রেডিংয়ের নেপথ্যে কারা যুক্ত ছিলেন এবং এর মাধ্যমে কত টাকার লেনদেন হয়েছে, এখন তা-ই খতিয়ে দেখছেন ইডি অফিসাররা।


