Bengal Liberty : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কৃষি ও কৃষক কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কৃষি ক্ষেত্রে একাধিক বড়সড় ঘোষণা করেছেন।

বাজেটের উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ ও ঘোষণা (West Bengal Budget 2026)
কৃষি বিভাগের জন্য ৮,৫৬৫.৮৪ কোটি টাকা এবং কৃষজ বিপণন বিভাগের জন্য ৩৬৪.৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য ১,৪০৪.৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে চালু কেন্দ্রীয় ‘এপিএম কিষাণ’ (APM Kisan) প্রকল্পের পাশাপাশি, রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবার পিছু বছরে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।
ধান চাষিদের আয় নিশ্চিত করতে খারিফ মরশুমে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) ওপর কুইন্টালে অতিরিক্ত ২০০ টাকা ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। এছাড়া, কৃষকদের ঝুঁকি কমাতে রাজ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা’ কার্যকর করা হয়েছে।
আরও খবর
কৃষকদের সহজে ঋণ ও সরকারি সুবিধা দেওয়ার জন্য ‘ডিজিটাল এগ্রিকালচার’ পরিকাঠামো এবং আরবিআই-এর ‘ইউনিফাইড লেন্ডিং ইন্টারফেস’-এর সুবিধাযুক্ত ‘ডিজিটাল কিষান কার্ড’ চালু করা হবে। এতে ঋণের আবেদন প্রক্রিয়া ১৫ দিন থেকে কমে মাত্র ১৫ মিনিটে নেমে আসবে।
কোল্ড স্টোরেজ ও প্যাকিং সেন্টার তৈরিতে ৩৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া উন্নত আলু বীজ উৎপাদনের জন্য আইসিএআর (ICAR)-এর সাহায্যে আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে (বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান) কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অতিরিক্ত আরও ১৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাকৃতিক উপায়ে চাষের জন্য ‘পিএম ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং’ চালু করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পগুলি সঠিকভাবে রূপায়িত হলে রাজ্যের কৃষি খাতে নতুন গতির সঞ্চার হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।


