Talatala Incident
Bengal Liberty: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬। এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি হয়েছে ১৩ জনের। আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৪ জন। যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। সূত্রের খবর, SSKM হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন খালেক সরকারের শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। আজ, শনিবার নতুন করে কোনও মৃত্যুর খবর আসেনি।

মৃত ১২ জনের নাম প্রকাশ্যে (Taratala Incident)
এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১২ জন মৃতের নাম প্রকাশ পেয়েছে। তাঁরা হলেন কৃষ্ণা চৌধুরী (৪৯), রোহিত চৌধুরী (২০), চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০), রাহুল চৌধুরী (১৭), পপ্পু কুমার রজক (৪০), ঘি কুমার (১৭), আসগর হুসেন (৫৪), সাহিল সর্দার (১৭), হাসান ইমাম (৪৪), গণেশ কালিন্দী (৪৫), নবীন সিং (৪৪) এবং স্বপন মন্ডল (৫৬)। একের পর এক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকাজুড়ে। দুর্ঘটনার পর থেকেই জোরকদমে উদ্ধারকাজ চললেও, গুদামের দুর্বল কাঠামোর কারণে বহু আটকে পড়া ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

SIT গঠন করে তদন্তে জোর (Taratala Incident)
তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে প্রশাসন। তদন্তের অগ্রগতিতে ইতিমধ্যেই লিজ হোল্ডার সংস্থার একাধিক কর্তা এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কীভাবে এই নির্মাণকাজ চলছিল, অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং প্রশাসনিক স্তরে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিপর্যয়ের জন্য পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে দায়ী করে দাবি করেছেন, ভবনটির ত্রুটিপূর্ণ নকশাতেই দুর্ঘটনার বীজ লুকিয়ে ছিল এবং সেই নকশায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় যাঁদের ভূমিকা প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃতদের পরিবার ও আহতদের স্বজনদের একটাই দাবি-দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।



