Ram mandir
Bengal Liberty:
অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রণামীর অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য (Ram Mandir)। তদন্তকারী সংস্থার মতে, ২০২৫ সালের কুম্ভমেলার সময় ভক্তদের বিপুল ভিড় এবং অনুদানের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়েই পরিকল্পিতভাবে অর্থ সরানো হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বোধন করা রাম মন্দিরে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অনুদান আসে। সেই প্রণামীর অর্থে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, কুম্ভমেলার সময় নগদ অনুদানের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছিল অভিযুক্তরা।

বিপুল অর্থ প্রণামী থেকেই চুরি
SIT সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও চুরির অভিযোগ ছিল। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিশেষ করে লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র—এই দুই ভায়রাভাই সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মন্দিরের প্রায় ৪০টি দানবাক্স থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থ ধাপে ধাপে স্থানান্তর করা হতো। কিন্তু সেই অর্থের নিয়মিত হিসাব মিলিয়ে দেখা হতো না। দানবাক্স থেকে গণনা করা টাকার সঙ্গে ব্যাঙ্কে জমা হওয়া অর্থও নিয়মিত মিলিয়ে দেখা হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, তিন মাস আগেই এই অনিয়ম নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও তা গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ মাত্র ৪৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকত। এরপর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেত। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। দেশের অন্যান্য বড় মন্দিরে যেখানে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ও আর্থিক নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে রাম মন্দিরে তা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
এদিকে, মামলার অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও সদস্য আদালতে সওয়াল করলে তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে। বর্তমানে SIT আর্থিক লেনদেন, দানবাক্স পরিচালনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হলে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


