Chandrima Bhattacharya
Bengal Liberty: তৃণমূলের অসময়ে মমতার হাত ছাড়লেন চন্দ্রিমা। রাজ্য সভাপতি-সহ তৃণমূলের সব পদ ছেড়েই বিধানসভায় গেলেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী তথা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে একটি বৈঠক হয় (Chandrima Bhattacharya)। বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। বৈঠক শেষে দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে না দিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, “কালের যাত্রায় সবাইকেই পা মেলাতে হয়।”
তাহলে কোন পথে পা মেলাতে চলেছেন চন্দ্রিমা? এর মধ্যেই ২০২১ সালের বাজেট নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অর্থমন্ত্রী থাকলেও বাজেট তৈরির বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। অথচ সেই বাজেট তিনিই বিধানসভায় পেশ করেছিলেন। এই চমকপ্রদ তথ্য জানানোর পরই তিনি সাংবাদিকদের জানান, পদত্যাগ করছেন তিনি।

বিস্ফোরক মন্তব্য চন্দ্রিমার (Chandrima Bhattacharya)
শনিবার সকালে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পদত্যাগপত্র তিনি দলের সর্বভারতীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। চিঠিতে চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, দলে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ইস্তফার পরই বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাজেট তৈরির সময় তাঁকে কোনও আলোচনায় রাখা হতো না।
বাজেট পেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারতেন, বাজেটে কী রয়েছে এবং কোন কোন প্রস্তাব বিধানসভায় উপস্থাপন করা হবে। শনিবার তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার পর এই বিষয়ে মুখ খোলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে চন্দ্রিমা বলেন, “আমার সঙ্গে আলোচনা করে কখনওই বাজেট তৈরি হয়নি। জনতা যখন জেনেছে, আমি তার কয়েক ঘণ্টা আগে জেনেছি। আমি আনুগত্য দেখিয়েছিলাম। সেটাই এখন প্রশ্নের মুখে, তাই আমি পদত্যাগ করেছি।”

ঋতব্রতর দলে চন্দ্রিমা? (Chandrima Bhattacharya)
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে প্রকাশ্যে এসেছে ভাঙন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাংশের বিদ্রোহে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত দল। একদিকে কালীঘাটপন্থী নেতৃত্ব, অন্যদিকে বিদ্রোহী বিধায়কদের শিবির, দুই পক্ষের মধ্যে চলছে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন। এই আবহে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
তাই তাঁর একের পর এক সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফাকে কালীঘাট শিবিরের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পদত্যাগের পর তাঁর বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। এদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতা তথা বিধায়ক সন্দীপন সাহা চন্দ্রিমার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনিও কি শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেবেন? সবটাই শুধু সময়ের অপেক্ষা।



