Basirhat Vabla Station
Bengal Liberty: বারুইপুরের ধপধপি কাণ্ডের নৃশংসতা যখন রাজ্যবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে, ঠিক সেই সময়েই বসিরহাটের ভ্যাবলা স্টেশনে এক নাবালিকাকে অপহরণের ছক বানচাল করল স্থানীয় সচেতন জনতা ও পুলিশ। খাবারের লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে প্রলোভন দেখানোর সময় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ ঘোষকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন যাত্রীরা। ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে যখন নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন প্রশাসনের এই দ্রুত তৎপরতা এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারি অপরাধীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত (Basirhat Vabla Station)
উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানার কাঁকড়া মির্জানগর এলাকার বাসিন্দা এক নাবালিকা তার মায়ের সঙ্গে মামারবাড়ি থেকে ফেরার পথে ভ্যাবলা স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বনাথ ঘোষ নামে ওই যুবক নাবালিকার সঙ্গে আলাপ জমায় এবং খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে স্টেশন চত্বর থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কিশোরীর বুদ্ধিমত্তায় কিছুদূর যাওয়ার পরেই সে চিৎকার শুরু করলে তার হাত ধরে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত।

জনতার ক্ষোভ ও প্রশাসনের সক্রিয়তা (Basirhat Vabla Station)
নাবালিকার চিৎকার শুনে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্টেশনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অপরাধীর পালানোর পথ রুখে তাকে ধাওয়া করে পাকড়াও করেন সাধারণ মানুষ। তাকে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বসিরহাট থানার পুলিশ। তৃণমূল নেতাদের মতো ঘটনার পর অযথা রাজনৈতিক নাটক বা প্ররোচনা না ছড়িয়ে, পুলিশ ও জিআরপি-র আধিকারিকরা পরিকল্পিতভাবে তদন্ত শুরু করেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন।

তৃণমূলের ‘মৃতদেহ রাজনীতি’ বনাম প্রশাসনের সুশাসন (Basirhat Vabla Station)
বারুইপুরের ঘটনার পর তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা যেভাবে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যারিকেড ও গৃহবন্দির প্রচার চালাচ্ছে, বসিরহাটের এই ঘটনায় তাদের সেই ‘রাজনৈতিক প্ররোচনা’র কোনো সুযোগই মেলেনি। সরকারের কঠোর নির্দেশ রয়েছে যে, অপরাধের ঘটনায় কোনোভাবেই রাজনৈতিক রঙ লাগানো যাবে না। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বারুইপুর বা বসিরহাট— যেখানেই অপরাধের চেষ্টা হচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পুলিশ ও প্রশাসনিক তৎপরতা প্রমাণ করছে যে, রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ই শেষ কথা। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা তৃণমূল নেতৃত্ব যখন ঘটনা নিয়ে কেবল চিৎকার-চেঁচামেচি করছে, প্রশাসন তখন বাস্তবে অপরাধীদের ডেরায় হানা দিয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

