TMC
Bengal Liberty : বারুইপুরের সূর্যপুরে নির্যাতিতা কিশোরীর বাড়ির সামনে জনতার বিক্ষোভের মধ্যেই সামনে এল তৃণমূলের নতুন সমীকরণ (TMC)। একই ঘটনায় ক্ষোভের মুখে পড়লেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং বিদ্রোহী সাংসদ সায়নী ঘোষরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই তৃণমূলের বিধায়ক শিউলি সাহার মুখে শোনা গেল, “আমরা তো আলাদা।” পরে সায়নীকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ঋতব্রতও বললেন, “আমরা আলাদা এসেছি।” অর্থাৎ, জনতার ক্ষোভের মাঝেই নিজেদের দলেরই সাংসদ কাকলি ও সায়নীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখল ঋতব্রত শিবির। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে একদিকে যেমন জনতার ক্ষোভ ধরা পড়ল, তেমনই প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের দুই শিবিরের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব (TMC)।

বিক্ষোভের মুখে ঋতব্রত শিবির (TMC)
সোমবার বারুইপুরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার নির্যাতিতা ও খুন হওয়া ১২ বছরের কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে, স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষকেও জনতার কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সূর্যপুরে পৌঁছন। ঋতব্রতদের দেখামাত্রই স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঋতব্রতকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন শিউলি সাহা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা তো আলাদা। তোমরা এভাবে আমাদের বাধা দিতে পারো না। আমরাও অপরাধীদের শাস্তি চাই।’’
Baruipur : মুখ্যমন্ত্রীর কথায় নির্যাতিতার বাড়িতে কাকলি-সায়নী
ঋতব্রতের মুখেও একই মন্তব্য, ‘আমরা আলাদা এসেছি’ (TMC)
অন্যদিকে, এনডিএ-সমর্থিত বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারও মঙ্গলবার বারুইপুরে যান। যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে দেখেও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়দের একাংশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ছেড়ে ১৯ জন বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-এ যোগ দেওয়ায় তাঁকে ‘গদ্দার’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। এক যুবক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘স্থানীয় সাংসদ কীভাবে ঘটনার তিন দিন পর এখানে আসেন? এত দিন উনি কী করছিলেন? তা ছাড়া উনি যাদবপুরবাসীদের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন। লোকসভা ভোটের সময় তৃণমূলত্যাগীদের উনি গদ্দার বলতেন, আজ উনি নিজে কী করলেন? এখানে এলেনই বা কেন?’’
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর ঋতব্রত বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আগেও কথা হয়েছে। আমরা বিচার চেয়েছি।’’ তবে সায়নী ঘোষকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলেন, ‘‘আমরা আলাদা এসেছি।” অন্যদিকে সায়নী ঘোষ বলেন, ‘‘জনগণের অভিমান থাকলে তাঁরা একশোবার আমাকে বলতে পারেন। যেমন এক মিনিটের জন্য আটকাবেন, তেমনই আধ ঘণ্টার জন্য ভেতরে ডেকে কথাও বলবেন। এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’’ সায়নী আরও যোগ করেন, ‘‘অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। ইতিমধ্যে তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন, আরও অনেকে গ্রেফতার হবেন। তবে আসল লক্ষ্য হল, গোড়া থেকে এই চক্রটিকে উৎখাত করা।’’


