Dudhia Bridge
Bengal Liberty:
দার্জিলিং ও মিরিকের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বুধবার নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি ‘দুধিয়া বেইলি ব্রিজ’-এর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী (Dudhia Bridge)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশই বর্তমান রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দুধিয়ায় বালাসন নদীর ওপর অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি টানা ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে বালাসনের ওপর থাকা আগের সেতুটি ভেসে যাওয়ায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল দুধিয়া এলাকা। সেই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বড় পদক্ষেপ।

ব্রিজে মজবুত হল পাহাড়ের যোগাযোগ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোটি নির্মাণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কোর, পূর্ত দফতর (পিডব্লিউডি) এবং জেলা প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এই অনুষ্ঠান থেকেই পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়ের জন্য স্থায়ী উদ্ধারকারী দল গঠন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। ভবিষ্যতে সিভিল ডিফেন্সের অধীনে একটি বিশেষ ‘অগ্নিবীর’ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা শোনা গেছে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। দার্জিলিং শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সমাধানে একটি নতুন সার্কুলার রোড নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দার্জিলিংয়ের বিকল্প হাইওয়ের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং এখন থেকে রোহিনী রোডের রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছে পিডব্লিউডি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সমস্ত উদ্যোগের ফলে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পরিষেবা আরও উন্নত হবে। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী দিনের আরও কিছু প্রকল্পের পরিকল্পনা তিনি নিজে পাহাড়ে গিয়ে ঘোষণা করবেন।
অন্যদিকে, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা পাহাড়ের মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রায় অনেক সুবিধা হবে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াংয়ের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ একটি নজির স্থাপন করেছে।

