Madhya Pradesh
Bengal Liberty : মুখে মাটি মেখে কোমরসমান জলে দাঁড়িয়ে গলায় ফাঁস মহিলাদের (Madhya Pradesh)। নদীর পাড়ে সাজানো চিতায় শুয়ে পুরুষরা। এভাবেই গত ১২ দিন ধরে অনশনে সামিল মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরের একাধিক গ্রামের আদিবাসীরা। কারণ, ‘কেন-বেতওয়া রিভার লিঙ্ক প্রোজেক্ট’-এর জন্য হারাতে হতে পারে তাঁদের জমি, জঙ্গল, ঘরবাড়ি ও জীবিকা। গোটা গ্রাম আন্দোলনে থাকায় বহু বাড়িতে রান্নাও বন্ধ। ৫০০-র বেশি মানুষ অভুক্ত। আন্দোলনকারীদের দাবি, উন্নয়নের নামে তাঁদের অস্তিত্ব মুছে দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে (Madhya Pradesh)।

উন্নয়নের প্রকল্পে উচ্ছেদের আশঙ্কা (Madhya Pradesh)
মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরে ‘কেন-বেতওয়া রিভার লিঙ্ক প্রোজেক্ট’-কে ঘিরে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য কেন নদীর অতিরিক্ত জল বেতওয়া নদীতে পৌঁছে দিয়ে বুন্দেলখণ্ডের জলসংকট কমানো। অনশনকারীদের দাবি, এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে স্থানীয় আদিবাসীদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের ফলে তাঁদের গ্রাম, কৃষিজমি, বন এবং বহু বছরের জীবনযাত্রা ধ্বংসের মুখে। পরিবেশবিদদের একাংশও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কয়েক লক্ষ গাছ কাটা পড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পান্না টাইগার রিজার্ভের বড় অংশ। পাশাপাশি অন্তত ২১টি গ্রামের অস্তিত্বও সংকটে পড়বে।
গত ১২ দিন ধরে একাধিক গ্রামের মানুষ অনশনে সামিল হয়েছেন। গোটা গ্রাম আন্দোলনে থাকায় বহু বাড়িতে রান্না পর্যন্ত বন্ধ। ৫০০-রও বেশি মানুষ অভুক্ত অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় সমাজকর্মী অমিত ভাটনগর আমরণ অনশনে বসেছেন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন মহিলা, পুরুষ, এমনকি পড়ুয়ারাও। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এতদিনেও কোনও চিকিৎসককে পাঠানো হয়নি। অনশনের জেরে অমিতের ওজন প্রায় ৬ কেজি কমেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর দাবি সরকারের, তাতেও অসন্তুষ্ট আন্দোলনকারীরা (Madhya Pradesh)
সরকারের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের জন্য নতুন করে সমীক্ষা করা হয়েছে। আরও ৭৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণও ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকাও বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
কিন্তু আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনও পুনর্বাসনের তালিকায় নেই। অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন। দালালদের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা বণ্টনে অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় কথা, শুধু টাকার বিনিময়ে পূর্বপুরুষের ভিটে, বন, সংস্কৃতি এবং জীবিকা ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা, এই লড়াই শুধু ক্ষতিপূরণের জন্য নয়। এটি তাঁদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন। উন্নয়নের নামে যদি জীবন ও সংস্কৃতিই হারিয়ে যায়, তবে সেই উন্নয়ন তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই প্রকল্প স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।


