Bengal Liberty : সার্ভিস কোটায় কীভাবে এসএসকেএমে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পেলেন অভীক দে (Dr. Avik De)? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার সরাসরি অভীককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত কমিটি। সোমবার দুপুর ২টোয় তাঁকে স্বাস্থ্য ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি অভীক দে-র বিরুদ্ধে অন্য কোনও অভিযোগ বা তথ্য থাকলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তা জানতে চেয়েছে কমিটি। প্রমাণ-সহ অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে (Dr. Avik De)।

অভীকের বিরুদ্ধে তথ্য থাকলে জানাতে বলল কমিটি (Dr. Avik De)
সার্ভিস কোটায় কী ভাবে এসএসকেএমে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন চিকিৎসক অভীক দে, তা খতিয়ে দেখতে আগের সোমবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই আরও এক ধাপ এগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য ও অভিযোগ চাইল। মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান তথা সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের পক্ষ থেকে একটি জনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে অভীক দে-র বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা তথ্য থাকলে তা তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। শুধু ভর্তির বিষয় নয়, তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনও অভিযোগ থাকলেও তা জানানো যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নথি, ছবি, অডিও-ভিডিও-সহ অভিযোগ জানানোর সুযোগ (Dr. Avik De)
তদন্ত কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যে অভীক দে-র বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও নথি, ছবি, অডিও বা ভিডিও থাকলে তা তদন্ত কমিটির নির্দিষ্ট ই-মেল ঠিকানায় পাঠানো যাবে। তবে বেনামে কোনও অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না। অভিযোগকারীকে নিজের সম্পূর্ণ নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর জানাতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আধার কার্ড, ভোটার কার্ডের মতো সচিত্র পরিচয়পত্রের প্রমাণও দিতে হবে। তদন্ত কমিটির সদস্যদের একাংশের বক্তব্য, তদন্তের প্রয়োজনে অভিযোগকারীর সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করার প্রয়োজন হতে পারে। সেই কারণেই অভিযোগকারীর পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য চাওয়া হয়েছে। যদিও অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর
তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম প্রধান বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে এমন অনেক তথ্য থাকতে পারে, যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অতীতে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্তের সময়ও একই ধরনের জনবিজ্ঞপ্তি দিয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং তাতে সাফল্য মিলেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অভীক দে-র ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুরনো তদন্তের নথিও খতিয়ে দেখার সম্ভাবনা (Dr. Avik De)
অভীক দে-কে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। তৃণমূল সরকারের আমলেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রধান চিকিৎসক উৎপল দাঁ জানান, দুর্গম এলাকায় কাজ করার জন্য অভীক দে যে সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী তা স্বাস্থ্য ভবনের দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সেই সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি। নতুন তদন্ত কমিটি চাইলে আগের তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও নথি দিয়ে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান উৎপল দাঁ।

অন্যদিকে, নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ চাওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থানও জানিয়েছেন অভীক দে। তাঁর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দিয়েই তিনি ২০২২ সালে সার্ভিস কোটার সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন। স্বাস্থ্য ভবন সমস্ত নথি যাচাই করার পরই তাঁকে সার্ভিস কোটা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। এর বাইরে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/17/mamata-banerjee-56/


