Bengal Liberty:
মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বকেয়া সংক্রান্ত মামলায় মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ফের শুনানি হয়। শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়, বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যের এই দাবির সঙ্গে একমত নয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ(Supreme court on DA)। কর্মচারী সংগঠনের দাবি, তাদের হিসাব অনুযায়ী এখনও প্রায় ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা হয়নি। ফলে ডিএ বকেয়া নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে নতুন টানাপোড়েন।

৪৩ শতাংশ বকেয়া মিটিয়েছে রাজ্য (Supreme court on DA)
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে, আজ সুপ্রিম কোর্টে ২০০৯ সালের মহার্ঘ ভাতা বকেয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। যৌথ মঞ্চের তরফে আদালতে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের যে বকেয়া রয়েছে, তার একটি অংশ মেটানো হলেও সম্পূর্ণ বকেয়া এখনও পরিশোধ হয়নি। সংগঠনের বক্তব্য, তাদের হিসাব অনুযায়ী এই সময়কালের বকেয়ার প্রায় ৪৩ শতাংশ সরকার পক্ষ থেকে মেটানো হয়েছে।
আরও খবর
পাশাপাশি, ২০০৯ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রসঙ্গও আদালতে ওঠে। সংগঠনের দাবি, ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়ার ক্ষেত্রে কিছু কর্মচারী অর্থ পেলেও বহু শ্রেণির কর্মচারী এখনও বঞ্চিত। বিশেষ করে ওয়ার্কচার্জ কর্মী, বিভিন্ন ডিএ-গেটেড প্রতিষ্ঠানের কর্মী, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী এবং পেনশনারদের বকেয়া নিয়ে এখনও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
সংগঠনের অভিযোগ(Supreme court on DA)
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, রাজ্যে কর্মরত কর্মচারী, শিক্ষক এবং পেনশনার মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এই বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ গ্রান্ট-ইন-এইড খাতের কর্মী। অথচ তাঁদের জন্য এখনও কোনও নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের।
শুনানিতে সংগঠনের আইনজীবী আদালতকে জানান, এখনও বহু কর্মচারী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাননি। এরপরই বিচারপতি নির্দেশ দেন, যাঁরা এখনও বকেয়া ডিএ পাননি বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের নাম-সহ তালিকা আদালতে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, শুধু কত শতাংশ বকেয়া দেওয়া হয়েছে, সেই দাবির পাশাপাশি কারা এখনও টাকা পাননি, সেই তথ্যও আদালতের সামনে আসতে চলেছে।

ইন্দু মালহোত্রা কমিটি(Supreme court on DA )
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছেও নিজেদের বক্তব্য জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলাকারী সংগঠনগুলিকে একজন করে প্রতিনিধির নাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই প্রতিনিধিদের সুপারিশ করা হবে, যাতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরতে পারেন।
সংগঠনের বক্তব্য, এতদিন তাঁদের পক্ষ থেকে সরাসরি সমস্ত বিষয় কমিটির সামনে তুলে ধরার সুযোগ সীমিত ছিল। এবার সেই সুযোগ তৈরি হওয়ায় বকেয়া ডিএ-র পাশাপাশি গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনারদের সমস্যাগুলিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে চাইছে তারা।
Supreme court on DA
সব মিলিয়ে, রাজ্যের ৬৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবি বনাম কর্মচারী সংগঠনের এখনও পর্যাপ্ত বকেয়া না মেটার পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম মামলা। আদালতে জমা পড়া কর্মচারীদের তালিকা এবং বকেয়া ডিএ নিয়ে পরবর্তী নির্দেশেই স্পষ্ট হতে পারে, বাস্তবে কতটা বকেয়া মিটেছে এবং এখনও কতটা পরিশোধ করা বাকি। ফলে মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

আরও পড়ুনঃ তারাপীঠে বন্ধ হচ্ছে ১৫ হোটেল! নিরাপত্তা নিয়ে বার্তা দিলেন পর্যটনমন্ত্রী


