Bengal Liberty:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে দেওয়াল লিখন-বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। বিগত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ও তা মুছে ফেলা নিয়ে বারবার তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সেই আবহেই এবার মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। যাদবপুরের দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে বামেদের কার্যকলাপকে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, “মার্ক্সবাদীরা এখন দেওয়ালেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে তাঁদের কোনও অস্তিত্ব নেই।”

কাকে ইঙ্গিত করলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh on Jadavpur)
দিলীপ ঘোষ বলেন, ” কমিউনিস্ট লোকজন দেওয়ালে যুদ্ধ করছে। বাস্তবে কিছু নাই। তো যারা তাদের প্রতি মনে হয় তারাও তাদের বিরুদ্ধে উত্তর দিচ্ছে যে এইভাবে লড়ছে। ছাত্র রাজনীতিতে, ইউনিভার্সিটি কলেজের লড়াই দেওয়ালেই হয়, এতদিন দেখে এসছি আমরা। যারা দেওয়াল লিখতে লিখতে দেওয়ালে ছবি হয়ে যাচ্ছে তাদের ওইটুকু অস্থিরতা আছে, আর কিছু নাই। আর যারা ওখানে রাষ্ট্রবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তারা জবাব দিচ্ছে। সেটা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আছে, সেটা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ দেখবে।”
আরও খবর
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট বাম সংগঠনের দিকে।৩৪ বছর রাজত্ব করা সিপিআইএম যে রাজ্য রাজনীতি থেকে একেবারেই নিশ্চিহ্ন তার প্রমাণ বিধানসভা নির্বাচনে কেবল একটি মাত্র বিধায়ক। ফলে দিলীপ ঘোষ কার্যত বোঝালেন রাজ্য রাজনীতিতে সিপিআইএম এর সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা দুর্বল। ফলে কলেজ ও বিশ্বদ্যালয় স্তরে যে এসএফআই এর সক্রিয় সংগঠনকে একেবারে কোণঠাসা করতে চাইছে এবিভিপি সেই আচরণকেই প্রশ্রয় দিলেন দিলীপ ঘোষ।

বিতর্কের সূত্রপাত (Dilip Ghosh on Jadavpur)
উল্লেখ্য, শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফের নতুন করে দেওয়াল লিখন দেখা যায়। এর আগে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের তরফে লেখা বিভিন্ন মার্ক্সবাদী স্লোগান মুছে সাদা করে দেওয়া হয়েছিল দেওয়াল। সেই দেওয়ালেই এবার ‘ফ্রি পিওকে’, ‘ফ্রি আকসাই চিন’, ‘নিপাত যাক লেনিনবাদ’, ‘অখণ্ড ভারত’-সহ একাধিক স্লোগান লেখে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণভাবে, স্লোগানের নিচে এবিভিপির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ
এর আগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে ‘কিষেণজি জিন্দাবাদ’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-সহ একাধিক স্লোগান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেছিলেন, শিক্ষাঙ্গনে এই ভাষায় স্লোগান অন্য ছাত্র ছাত্রীদের দেশ বিরোধিতার উস্কানি দিচ্ছে। ফলে যাদবপুরের সভা মঞ্চ থেকে তিনি ‘ বেয়াদপদের সোজা ‘ করার নিধান দিয়ে বাম ছাত্রসংগঠনকে ইঙ্গিত করেছিলেন। এর পরেও প্রতিবাদ মিছিল করে এসএফআই। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখনকে সাদা রং করে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। এর পর শনিবার আবারও নতুন করে এবিভিপির দেওয়াল লিখনকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়েছে যাদবপুরের ছাত্র রাজনীতি। আর সেই আবহেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তান সরকারকে তুলোধোনা কিংবদন্তী ব্রায়ান লারার!


