Bengal Liberty : বিশ্বজুড়ে সংঘাতের গ্রাফ ক্রমশ উর্ধমুখী। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ছে জলভাগেও। এই আবহে দীর্ঘ উপকূলরেখা, বিশাল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সমুদ্রনির্ভর অর্থনৈতিক-জ্বালানি থাকা ভারতের কাছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার জলভাগে শত্রুদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে জলভাগ মুড়ে ফেলছে ভারতের যুদ্ধজাহাজ। নৌবাহিনীর পাল্লা ভারী করে শনিবার মহালয়ার দিন যাত্রা শুরু করল ‘শ্রেয়স’।
নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ গার্ডেনরিচে
জানা যাচ্ছে, প্রায় ৩ হাজার টন ওজনের ওই জাহাজটি ১১৮ মিটার লম্বা এবং ১৪.৬ মিটার চওড়া। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে নতুন জাহাজটি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৩ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারবে। ভারতের উপকূল ছাড়াও প্রয়োজনে দূরবর্তী সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার উপযোগী করে নির্মাণ করা হচ্ছে ওই জাহাজ। একটানা ৮ হাজার কিলোমিটার যেতে পারবে জাহাজটি। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সমুদ্র উদ্ধার কাজ পরিচালনা ছাড়াও হাসপাতাল হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে ওই জাহাজ।
মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য তৃতীয় অফশোর পেট্রল ভেসেল ‘শ্রেয়স’ জলে নামিয়ে নজির গড়ল গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)। জাহাজটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৮ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। শনিবার জিআরএসইর ডকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর ভাইস চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল অজয় কোচ্ছার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজয় কোচ্ছার বলেন, “এই সাফল্য জিআরএসই-র কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং ২৪ ঘণ্টা ধরে কাজ করার মানসিকতার প্রতিফলন।”
আরও খবর
সামুদ্রিক নজরদারি, জলদস্যু দমন, বিপর্যয়ের সময় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই জাহাজগুলি। এর ফলে ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে দাবি। এর পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের উপরেও বিশেষ জোর দেন ওই আধিকারিক।
উল্লেখ্য, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য গভীর সমুদ্রে নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনে শত্রু জাহাজে অভিযান চালানোর উপযোগী চারটি বিশেষ জাহাজ তৈরি করছে গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স। ওই চারটি জাহাজের মধ্যে ‛শ্রুতি’ এবং ‛সঙ্ঘমিত্রা’ নামের দু’টি জাহাজকে আগেই পরীক্ষামূলকভাবে জলে ভাসানো হয়েছে। শনিবার মহালয়ার দিন শ্রেয়স নামে আরও একটি জাহাজকে জলে ভাসানো হল।


