Bengal Liberty : আগামী নভেম্বর মাসেই ভারত সফরে আসতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে চলেছে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর। ইতিমধ্যেই এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডু। দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও কেন প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য ভারতকেই বেছে নিচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী?
মোদি-বলেন্দ্র বৈঠকে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা
সূত্রের খবর, নভেম্বরের তৃতীয় অথবা চতুর্থ সপ্তাহে তিন দিনের সফরে দিল্লিতে আসতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। যদিও এখনও পর্যন্ত সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে বলেন্দ্র শাহের। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্যিক ঘাটতি এবং নেপালের জন্য ভারতের আকাশপথ ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, রেল ও সড়ক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে।
চীন নয় ভারত কেই গুরুত্ব
নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের দিক থেকে ভারতের গুরুত্ব যথেষ্ট। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ আমদানি-রফতানির সম্পর্ক রয়েছে। নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় বাজারে বিদ্যুৎ রফতানি বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কাঠমান্ডুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও খবর
তবে ভারতকে প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নেপাল চিনের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সরে আসছে। বরং দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই কাঠমান্ডুর কূটনীতির অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই সফর থেকে কী কী চুক্তি ও বাস্তব সিদ্ধান্ত সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


