Suvendu letter on Messi Kolkata trip chaos
Bengal Liberty Desk, ১৩ ডিসেম্বর, কলকাতা: যুবভারতী স্টেডিয়ামে (Vivekananda Yuba Bharati Krirangan) বেনজির বিশৃঙ্খলা। উদ্যোক্তাদের আগেই গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (C. V Ananda Bose) । একই দাবিতে সুর চড়িয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose) ও অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এই আবহে এবার রাজ্যপালকে তিন পাতার চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা। যেখানে, যুব ভারতী স্টেডিয়ামে ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার জন্য রাজ্যপালকে অনুরোধ জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu letter on Messi Kolkata trip chaos)।রাজ্যপালকে তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে, যার প্রধান হবেন কলকাতা হাইকোর্টের একজন কর্মরত মাননীয় বিচারপতি এবং তাঁকে সহায়তা করবেন এমন কিছু ব্যক্তি যাদের সততা প্রশ্নাতীত এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে যাদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।

শুভেন্দুর পাঠানো চিঠির মূল বিষয় (Suvendu letter on Messi Kolkata trip chaos)
‘যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার, প্রশাসনিক আইনের অপব্যবহার এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সহ মানুষের হয়রানির বিষয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার জন্য মহামান্য রাজ্যপালকে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের আবেদন।’
চিঠিতে শুভেন্দু লেখেন, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যা ঘটেছে, তা কেবল প্রশাসনিক অদক্ষতার একটি ঘটনা নয় মাত্র, এটি নাগরিকদের প্রকাশ্য অপমান, লাগামহীন রাজনৈতিক অধিকারের অপব্যবহারের প্রদর্শন এবং হাজার-হাজার মানুষের সামনে আইনের শাসনের উপর সরাসরি আক্রমণ।জনগণের অর্থে নির্মিত একটি স্টেডিয়াম, যা খেলাধুলার শ্রেষ্ঠত্ব এবং সম্মিলিত গৌরব উদযাপনের জন্য তৈরি হয়েছিল, তাকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অভিজাতদের জন্য একটি ব্যক্তিগত দরবারে পরিণত করা হয়েছে। অথচ যে নাগরিকেরা এর নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন তাদেরই তুচ্ছ দর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা, যারা শুধুমাত্র বিশ্বাসের জোরে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন, তাদের কেবল ফুটবলের ভগবান দর্শন থেকেই বঞ্চিত করা হয়নি, বরং একটি সর্বজনীন অনুষ্ঠানের উপস্থিত বৈধ দর্শক হিসেবে প্রাপ্য মৌলিক মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। লাগামহীন ভিআইপিদের অনুপ্রবেশ, কর্তা থেকে মন্ত্রী সহ তাদের সঙ্গীদের স্থান দখল, ইচ্ছাকৃতভাবে মেসি দর্শনের পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং স্বেচ্ছাচারী বিধিনিষেধের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন- এই সবকিছু সম্মিলিতভাবে ক্ষমতার আড়ালে প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানির শামিল।
ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা। তাই যুবভারতী স্টেডিয়ামে হওয়া চরম বিশৃঙ্খলার এই ঘটনায় রাজ্যপাল সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে একটি প্রকৃত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেবেন ও তাঁরআর্জি মেনে রাজ্যপাল দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী শুভেন্দু।
