Bengal Liberty : এ যেন বোধনেই বিসর্জনের সুর। চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হল কলকাতার একাধিক বড় পুজোমণ্ডপ। এই তালিকায় রয়েছে টালা প্রত্যয়, চেতলা অগ্রণী এবং চালতাবাগান লোহাপট্টি। দুর্ঘটনার পর জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুজো উদ্যোক্তারা। চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপও আপাতত দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রয়েছে।
টালা প্রত্যয়ের তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক নির্দেশ অনুসারে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে পুজোমণ্ডপ। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। একইভাবে চেতলা অগ্রণী এবং চালতাবাগান লোহাপট্টির উদ্যোক্তারাও সাময়িকভাবে মণ্ডপে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উৎসবের মরসুমে শহরের জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও খবর
শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল সূত্রে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে সাত বছরের একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজোর আনন্দের মাঝেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা গোটা বাংলার উৎসবের আবহে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার আহতদের চিকিৎসা, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা।


