Bengal Liberty : চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার তদন্তকারীদের নজরে ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগ। এসটিএফের হাতে সোমবার রাতেই গ্রেপ্তার হয়েছে একজন। কোচবিহার থেকে আইনুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, আইনুলের বাংলাদেশ-যোগ নিয়েও সন্দেহজনক তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। তার সত্যতা যাচাই করছে এসটিএফ। এরই মধ্যে আইনুলকে ‘বাংলাদেশ-নেপালের এজেন্ট’ বলে তোপ দাগলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর হুঁশিয়ারি, সরকারের নজর আছে সবদিকে, কাউকে ছাড়া হবে না। রাজ্যে অশান্তি তৈরির চেষ্টা বরদাস্ত করবে না সরকার। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কিছু মানুষ বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ছড়িয়ে শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে”।
শনিবার অর্থাৎ প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেই কলকাতার বুকে নেমে আসে বিষাদের সুর। বৃষ্টি আর ভিড়ের চাপে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপের গেট ভেঙে পদপিষ্ট হয়ে মৃ*ত্যু হয় ১৯ জনের। পুজোর কলকাতায় এত বড় বিপর্যয়ের নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারণ খুঁজতে গিয়ে নিরাপত্তার ফাঁকফোকরগুলিই বেরিয়ে আসে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে দ্রুত ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। ওইদিন চোরবাগানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সোমবার রাতে কোচবিহার থেকে আইনুল হক নামে আরেকজনকে ধরা হয়। আইনুলের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধ চক্রের যোগ আছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে ঠিক কী উদ্দেশে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছিল, তার উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।
আরও খবর
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সামনে আইনুলকে নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘দিকে দিকে এসব লোকজন উপদ্রব করছে, শান্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে। এরা কেউ বাংলাদেশ, কেউ নেপালের এজেন্ট। ভারতকে নিয়ে অশান্তির ছক কষছে। এছাড়া পশ্চিমবাংলায় এতদিন এদের মাধ্যমে টাকাপয়সা ঢুকেছে। এখনও ঢুকছে। তবে সরকারের সবদিকে নজর আছে। কাউকে ছাড়া হবে না। অন্যায় করলে শাস্তি পাবে।” এমনটাই হুশিয়ারি দিয়েছেন দিলীপ। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ধৃত আইনুলের বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক যোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।


