DY Chandrachud
DY Chandrachud

বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Bengal Liberty : বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোদি সরকারের প্রতি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিশন কৌলের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ সামনে আসার পর এই বিতর্ক ঘিরে নতুন করে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। যদিও বইয়ের প্রকাশের আগেই প্রকাশিত অংশের ভিত্তিতে ওঠা এই অভিযোগগুলির পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা জয়রাম রমেশ একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বিচারপতি কৌলের আত্মজীবনী ‘উইদাউট ফিয়ার অর ফেভার’-এর প্রাক্প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, বিচারক নিয়োগের প্রশ্নে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় সরকারের প্রতি ‘অত্যধিক নমনীয়’ ছিলেন। এই দাবি সামনে আসতেই বিচারবিভাগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জয়রাম রমেশের বক্তব্য, বিচারপতি কৌলের বই মোদি সরকারের শাসনকালে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর দাবি, বইতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকের আগেই সরকারের অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক বিচারকের জাতি বা বর্ণ নিয়ে সরকারের প্রশ্ন তোলার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতার মতে, বিচারক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটলে তা বিচারব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

রমেশ আরও বলেছেন, ‘অতীতে যে বিষয়গুলি নিয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা করতেন, বিচারপতি কৌল তাঁর আত্মজীবনীতে সেগুলি সংযত ও দায়িত্বশীল ভাষায় নথিবদ্ধ করেছেন।’ তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, দেশের সংবিধান রক্ষা এবং নাগরিকদের অধিকার সুনিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্টকে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ও চাপ থেকে মুক্ত রাখা প্রয়োজন। তবে আত্মজীবনীর যে অংশগুলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিচার করা কঠিন।

এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কেন্দ্রীয় সরকার ও দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ভারতকে ব্যর্থ করেছে। আর দেশের সুপ্রিম কোর্ট প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভারতকে ব্যর্থ করেছে। শেষেরটি সবচেয়ে গভীর প্রতারণা।’ তাঁর এই মন্তব্যে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে ।

ভারতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ব্যবস্থায় বিচারপতিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা সুপারিশ করেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কলেজিয়ামের মতপার্থক্য এবং নিয়োগের সুপারিশ কার্যকর করতে বিলম্ব নিয়ে অতীতেও একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। ফলে বিচারপতি কৌলের আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি থেকে উঠে আসা বলে দাবি করা বিষয়গুলি সেই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।


তবে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মূলত আত্মজীবনীর প্রাক্প্রকাশিত অংশ এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। অভিযোগগুলির পূর্ণ বিবরণ, বইটির চূড়ান্ত সংস্করণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য প্রকাশ্যে এলে বিতর্কের প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক ভারসাম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার প্রশ্নটি এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে ফের জাতীয় আলোচনায় উঠে এল।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।