Bengal Liberty : নির্বাচনের মুখে ফের বিতর্কে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ভোটের মাত্র দু’দিন আগে তেল আভিভে পরমাণু বিস্ফোরণের একটি AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন তিনি। আর সেই ছবি ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি করে নির্বাচনী ফায়দা তুলতে চাইছেন নেতানিয়াহু।
রবিবার, ২৫ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে ওই AI ছবিটি পোস্ট করেন নেতানিয়াহু। ছবিতে দেখা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ শহরের উপর উঠে আসছে বিশাল মাশরুম ক্লাউড। বিস্ফোরণের আগুনে জ্বলছে একাধিক বহুতল। ছবিটিতে তেল আভিভে পরমাণু হামলার একটি কাল্পনিক দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আরও খবর
ওই ছবির সঙ্গে ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইউভাল ব্লুমবার্গের একটি বার্তাও ভাগ করে নেন তিনি। সেখানে বলা হয়, ইরান পরমাণু অস্ত্র হাতে পেলে ইজরায়েলের অস্তিত্বের সামনে ভয়াবহ বিপদ তৈরি হতে পারে। এমনকী, দ্বিতীয় হলোকাস্টের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়। নেতানিয়াহুর বার্তায় ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান সম্পূর্ণ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের তোপ নেতানিয়াহুকে
নেতানিয়াহুর এই পোস্টের পরেই সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। ইজরায়েলের বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ফের ভয় দেখানোর রাজনীতি শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বারবার একই কৌশলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইরান ইস্যুই নির্বাচনের অন্যতম বড় হাতিয়ার
আগামী ২৭ অক্টোবর ইজরায়েলে নির্বাচন। তার আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, দেশের নিরাপত্তা এবং নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যকালের বাকি সময়কে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু।
তবে এই পোস্ট ঘিরে একটি বড় প্রশ্নও উঠছে। অতীতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করার দাবি করেছেন নেতানিয়াহু নিজেই। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ফের ইরানের পরমাণু হুমকিকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরায় তাঁর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকেরা।
সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনকে ঘিরে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। AI প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এই ছবি নির্বাচনী প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


