Bengal Liberty : কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। তবে মামলা খারিজ করেনি আদালত। রাজ্য ও মামলাকারী, উভয় পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত কলকাতা পুরসভার নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অন্তর্র্বতী আইনি বাঁধা রইল না।
শুনানিতে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন মামলাকারীরা। কলকাতা পুরসভার কমিশনার যেভাবে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম রয়েছে কি না, তা-ও জানতে চান বিচারপতি। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়াটি যুক্তিহীন। পাশাপাশি, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে পুরসভার প্রশাসকের আইনি অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজ্যকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলাকারীদের চার সপ্তাহের মধ্যে তার জবাব দিতে হবে। ছয় সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আপাতত কোনও অন্তর্র্বর্তী স্থগিতাদেশ না থাকায় নির্বাচন প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সামনে এই মামলার কারণে নতুন কোনও বাধা তৈরি হল না বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
আরও খবর
এদিকে, কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতিও এগোচ্ছে। সূত্রের খবর, পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডের জন্য সম্ভাব্য বুথের সংখ্যা ৪ হাজার ৭১১। ভোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২২ হাজার ৬০০ জন ভোটকর্মী। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, আসন্ন পুর নির্বাচনে ইভিএমে ‘নোটা’ বোতাম না-ও থাকতে পারে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে আইনি লড়াই চললেও আপাতত নির্বাচনের প্রস্তুতি থমকে যাওয়ার কোনও নির্দেশ নেই। আগামী শুনানিতে রাজ্য ও মামলাকারীদের হলফনামার ভিত্তিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


