Bengal Liberty: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইয়ে বারবার হুঙ্কার, একের পর এক কর্মসূচির ঘোষণা, সংবাদমাধ্যমে ঢাকঢোল পেটানো—সবই চলছিল জোরকদমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মল্লিকার্জুন খাড়গের বাংলোর লনে একটি প্রতীকী সংসদের মহড়াও বাস্তবায়িত হল না।
যে বিরোধী জোট সংসদের ভিতরে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের সেই প্রস্তুতির প্রথম ধাপেই বাধা হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টি। প্রবীণ নেতাদের বৃষ্টির মধ্যে বসতে অসুবিধা হবে, তাই পিছিয়ে দেওয়া হল কর্মসূচি। এখন প্রশ্ন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এত বড় লড়াইয়ের ডাক দেওয়া বিরোধীদের ঐক্যের মহড়াও কি এতটাই আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল?
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “সর্বসম্মতিক্রমে আমরা আজকের কর্মসূচি আগামীকাল একই সময়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃষ্টির কারণেই এই সিদ্ধান্ত। আমাদের মনে হয়েছে, প্রবীণ নেতাদের পক্ষে বৃষ্টির মধ্যে বসে থাকা অসুবিধাজনক হবে। আগামীকাল একই কর্মসূচি হবে।” বৃষ্টি অবশ্যই একটি কারণ। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মুখে ঐক্যের এত দাবি থাকলেও বাস্তবে সেই ঐক্যের প্রস্তুতি কতটা মজবুত?
আরও খবর
প্রথমে ইন্ডি জোটের তরফে মক পার্লামেন্টের কথা বলা হলেও পরে কর্মসূচির ধরন বদলে ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সংসদের ভিতরে কীভাবে শাসকপক্ষকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হবে, তারই যেন আগাম মহড়া দিতে চেয়েছিল বিরোধীরা। কারণ, জোটের শরিকদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে সংসদের ভিতরে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে চাইছিলেন রাহুল গান্ধীরা। কিন্তু সেই মহড়াতেও শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টি!
এদিকে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড়সড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইন্ডি জোট। রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, “পরশু রামলীলা ময়দানে আমাদের মিছিল রয়েছে। সমস্ত বিরোধী দল, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন, সমাজসেবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিক যাঁরা আসতে চান, সকলকেই স্বাগত জানাচ্ছি।”
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি, কারণ আমরা সংবিধানকে রক্ষা করছি, ভারতের ভাবনাকে রক্ষা করছি এবং প্রত্যেক ভারতীয়ের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই করছি।” কিন্তু এই ঐক্যের দাবির মধ্যেই অতীতের ছবিও ভুলে যাওয়ার নয়। বিজেপি-বিরোধিতার মঞ্চ হিসেবে তৈরি হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। অথচ আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং মতবিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার শরিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
কেউ জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন, আবার রাজনৈতিক প্রয়োজনের তাগিদে ফিরে এসেছেন। যার অন্যতম উদাহরণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছেই, যে জোটের শরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ এত ওঠানামা করে, তারা কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি ঐক্যের জায়গায় পৌঁছতে পেরেছে?


