Bangladesh
Bengal liberty Desk, ২০ ডিসেম্বর, কলকাতা: বাংলাদেশের (Bangladesh) ময়মনসিংহে (Mymensingh) এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা! পরে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সর্বত্র। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র তথা জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির ছাত্র নেতা শরিফ ওসমান হাদির (Osman Hadi) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। ৩ দিন পার, অশান্ত বাংলাদেশ। গতকাল, রবিবার প্রথম বিবৃতি জারি করলো ভারত সরকার। প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ নিয়ে ফের উদ্বিগ্ন নয়া দিল্লি। বিবৃতিতেও তার উল্লেখ রয়েছে। নয়াদিল্লির বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করে ঢাকাও। শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছিলই। এ বার বিবৃতি এবং পাল্টা বিবৃতি তা আরও অনেক গুণ বাড়িয়ে দিল।
উত্তপ্ত বাংলাদেশ (Bangladesh)
হাদির (Osman Hadi) মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ (Bangladesh)। হাসিনা বিরোধী বলে পরিচিত বাংলাদেশের এই তরুণ নেতাকে অতীতে ভারত বিরোধী বিভিন্ন মন্তব্যও করতে দেখা গিয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাদেশে। রাস্তায় তাণ্ডব, পাথরবৃষ্টি, অগ্নিকাণ্ড। ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের বাইরে বিক্ষোভ, পাথরবৃষ্টি।বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে সে দেশের সংবাদমাধ্যমও। বাংলাদেশের দু’টি সংবাদমাধ্যমের অফিসে আগুন। অফিসে ঢুকে চলে ভাঙচুর। ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে চলে রাতভর তাণ্ডব। হাসিনা-বিরোধী ছাত্র নেতার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জুড়ে বিক্ষোভ, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই ময়মনসিংহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বছর ২৭ এর দীপুচন্দ্র দাসকে। অভিযোগ, খুনের পরে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দীপুর হত্যাকাণ্ডে বিচারের দাবি তুলে বিবৃতি জারি করেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।
দ্বিপাক্ষিক স্তরে চাপানউতর শুরু হয়েছিল হাদির মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকেই। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ভারতকে। তার কয়েক দিন পরেই দিল্লিতে (Delhi) নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বাংলাদেশের তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লা ‘সেভেন সিস্টার্স’ (Seven-Sisters)-কে ভারতের মানচিত্র থেকে আলাদা করে দেওয়ার ডাক দেন। শুধু তাই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেবে বাংলাদেশ, এমনও মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। হাসনাতের ওই বক্তৃতার প্রেক্ষিতেই তলব করা হয়েছিল বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে। প্রধানত কূটনৈতিক চাপানউতরের একটি প্রেক্ষাপট তখন থেকেই তৈরি হচ্ছিল। রবিবার দুই দেশের তরফে বিবৃতি এবং পাল্টা বিবৃতিতে তা আরও স্পষ্ট হল।
দীপু হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি ভারতের (Bangladesh)
বৃহস্পতিবার থেকে অশান্ত বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে রবিবারই প্রথম মুখ খোলে ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের (Bangladesh) পরিস্থিতির দিকে নিবিড় ভাবে নজর রেখেছে ভারত। সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আধিকারিকেরা যোগাযোগ রাখছেন। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন- তা তাঁদের জানানো হয়েছে। দীপুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেই আবেদন জানিয়েছে ভারত।”
ময়মনসিংহের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে শনিবার এক দল যুবক বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। কয়েকটি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে তা নিয়ে ভুয়ো এবং অতিরঞ্জিত খবর প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশের মধ্যে আমরা ভুয়ো প্রচার দেখতে পাচ্ছি। সত্যিটা হল, গত শনিবার নয়াদিল্লির বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে ২০-২৫ জন যুবক জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা ময়মনসিংহে দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং স্লোগান দেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানান। দূতাবাসে জোর করে প্রবেশের কোনও চেষ্টা করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের কিছু ক্ষণের মধ্যেই সরিয়ে দেয়। এর ফুটেজ প্রকাশ্যেই রয়েছে।” ভারতের মাটিতে অবস্থিত যে কোনও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নয়া দিল্লি বদ্ধপরিকর, জানিয়েছেন রণধীর।
বাংলাদেশের পাল্টা বিবৃতি জারি
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের ওই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রক। ময়মনসিংহের ঘটনা নিয়ে ভারতের বিবৃতির আপত্তি জানিয়েছে তারা। মুহাম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ওই বিবৃতিতে দাবি করেছে, ময়মনসিংহের ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ভারতের কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বলে দেখাচ্ছেন বলে দাবি করেছে তারা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, বাংলাদেশে একজন নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ময়মনসিংহের ঘটনায় তারা দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি যথেষ্ট ভাল বলে দাবি ঢাকার। দিল্লিতে বাংলাদেশে দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ঘটনাকেও ভারত সরকার ‘সরলীকরণ’ করছে বলে দাবি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের।
ভারতের বিবৃতির পর পরই ঢাকার এই পাল্টা বার্তা দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চাপানউতরকে আরও বৃদ্ধি করল বলে মনে করা হচ্ছে (Bangladesh) ।
