Suvendu on Temporary Civil Defence Workers Protest
Bengal Liberty Desk, ২৬ ডিসেম্বর, কলকাতা: বড়দিনের উৎসবের আবহে (Christmas) অস্থায়ী সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের অবস্থান-বিক্ষোভ (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)। রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নের (Nabanna) অদূরেই প্রতিবাদের উত্তাপ। সিভিল ডিফেন্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অস্থায়ী কর্মীরা এই কনকনে ঠান্ডায় খালি গায়ে, হাতে থালা নিয়ে অভিনব প্রতিবাদে শামিল হলেন। নবান্নের ঢিল ছোঁড়া দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের অবস্থান-বিক্ষোভ কয়েকদিন ধরেই চলছে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ফাইটারস্ অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাই কোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পরেই মন্দিরতলা এলাকায় অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী।
আন্দোলনকারীদের দাবি (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)-
আন্দোলনকারীদের দাবি, মাসে অন্তত ৩০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি পেনশন (Pension) ও ESI সুবিধা চালুর দাবিও তুলেছেন তাঁরা। কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করলেও ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আজ, শুক্রবার হাওড়ার মন্দিরতলার অবস্থান-বিক্ষোভের মঞ্চে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)। থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, রাজ্যের হাজার হাজার সিভিল ডিফেন্স কর্মী বিপর্যয় মোকাবিলা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিষেবার সময় প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। অথচ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি নেই, নেই স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তাও। এমনকি ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষাও দেওয়া হচ্ছে না তাঁদের। রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থায়ী সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের স্থায়ীকরণের কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।
শুভেন্দুর দাবি (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)-

বিরোধী দলনেতা বলেন, “রাজ্য সরকার সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের শুধু ভোটের সময় ব্যবহার করে। কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে বছরের পর বছর, কিন্তু স্থায়ীকরণের প্রশ্ন এলেই ‘নীরব’ সরকার। এটা চরম অন্যায় ও শোষণ।“ তাঁর আরও অভিযোগ, অনেক কর্মী মাসের পর মাস ভাতা পান না, কোনও নির্দিষ্ট সার্ভিস রুল নেই, নেই পেনশন বা স্বাস্থ্যবিমার মতো সুযোগ-সুবিধা। শুভেন্দুর মতে, এই পরিস্থিতি প্রশাসনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি মানবিক ব্যর্থতাও (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)।
কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers) বলেন, ‘গোটা দেশে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হয়ে গিয়েছে, অষ্টম পে কমিশনও হচ্ছে। অথচ আপনারা এখনও অর্ধেক মাইনে পাচ্ছেন। যাঁর জন্য কাজ করছেন, তিনিই আপনাদের মাইনে কমিয়ে রেখেছেন।‘ তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন অন্তত ৪০ শতাংশ কম। ‘আজকাল একটা ভাল স্কুলে বাচ্চাকে পড়াতে মাসে ১০ হাজার টাকা লাগে,’ বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)।
সিভিল ডিফেন্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এঁরা কারও দয়ায় পদ পাননি। প্রশিক্ষিত কর্মী হিসেবেই তাঁরা বিপর্যয়ের সময় জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে মানুষের পাশে দাঁড়ান। অথচ তাঁদের জন্য নেই স্থায়িত্ব, নেই ন্যূনতম আর্থিক সুরক্ষা। শুভেন্দুর (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers) দাবি, অন্য রাজ্যে NDRF কর্মীরা ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান, SDRF-এ সেই অঙ্ক প্রায় এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি। সেখানে বাংলায় হাজার হাজার কর্মী অস্থায়ী তকমা নিয়ে কাজ করছেন, সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে।
বিরোধী দলনেতার (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers) আরও অভিযোগ, ন্যূনতম মজুরি যেখানে ৫০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে, সেখানে রাজ্য সরকার প্রায় ১৪ হাজার কর্মীকে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে। এ দিন ১,৫০০ টাকার বেকার ভাতা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘রাজ্যের মাইনে কম। আপনারা রাস্তা থেকে যে টাকা তোলেন, সেটা আবার উঁচু, IPS পদে চলে যায়। তারপর আবার সেটা ঘুরে কালীঘাট পৌঁছয়।’
এদিন বারংবার কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্য বনাম পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টেনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা যেখানে বেতন কমিশনের সুফল পাচ্ছেন, সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা অনিশ্চয়তায় পড়ে রয়েছেন। অষ্টম বেতন কমিশনের কারণে এই ফারাক আরও বাড়বে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ স্থায়ী পদ অবলুপ্ত করা হয়েছে। কাজের পুনর্নবীকরণের ‘গাজর’ ঝুলিয়ে রেখে কর্মীদের বঞ্চনা করা হচ্ছে।
বড় বার্তা শুভেন্দুর (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)
বিরোধী দলনেতা জানান, ‘ মুখ্যমন্ত্রীর ঢিল ছোড়া দূরত্বে আপনারা ধর্নায় বসেছেন। আপনারা চাইলে আইনজীবী দিয়ে আইনি লড়াইয়ে আমি ভূমিকা নিতে পারি। আগামী দিনে রাজ্যে আমাদের সরকার এলে ন্যায্য দাবিতে আপনাদের পাশে থাকব।‘ প্রয়োজনে বিধানসভা থেকে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, অবিলম্বে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করে যোগ্য সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের স্থায়ী করতে হবে (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers)।
তবে রাজনৈতিক মহলের মত, বিধানসভা নির্বাচনের আবহে অস্থায়ী কর্মীদের ইস্যু ক্রমশ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে, অস্থায়ী সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu on Temporary Civil Defence Workers) এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বড়দিনের আবহেও এই প্রতিবাদ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
