BLO missing in katwa
Bengal Liberty: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানির ঠিক আগেই নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক বুথ লেভেল অফিসার (BLO missing)। গত দু’দিন ধরে তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় পূর্ব বর্ধমানের (East Bardhaman) কাটোয়া (Katwa) জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ যেমন বেড়েছে, তেমনই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ বিএলওর নাম অমিতকুমার মণ্ডল (Amit Kumar Mondal)। তিনি কাটোয়া-১ ব্লকের (Katwa-1 Block) খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের বিকিহাট এলাকার বাসিন্দা। পেশায় শিক্ষক অমিত কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এবং কাটোয়া বিধানসভার ২৩ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, (BLO missing)
গত মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ বাজার থেকে ফিরে মোটরবাইক রেখে অমিত বাড়িতে জানান, বিএলও সংক্রান্ত একটি বৈঠকে যাচ্ছেন। তারপর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ নেই। বিকেল গড়িয়ে গেলেও যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। খোঁজ শুরু করতে গিয়ে বাড়ির মধ্যেই পাওয়া যায় তাঁর মোবাইল ফোন, বিএলও পরিচয়পত্র এবং এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি।
আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে খোঁজ করেও সন্ধান না মেলায় মঙ্গলবার রাতেই কাটোয়া থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে মিসিং ডায়েরি করা হয়। কিন্তু চার দিন পেরিয়ে গেলেও অমিতের কোনও হদিস মেলেনি। কী কারণে তিনি নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না কিছুতেই।
পরিবারের দাবি, বিএলওর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন অমিত। জানা গেছে, তাঁর দায়িত্বে থাকা বুথে মোট ৬৪১ জন ভোটার রয়েছেন। এসআইআর শুনানির জন্য তিনি ৩৩ জন ভোটারকে নোটিস বিলি করেছিলেন। আগামী দু’দিনের মধ্যেই শুনানি শুরু হওয়ার কথা, যেখানে বিএলওর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এর আগেই তাঁর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনও কার্যত অস্বস্তিতে।
এ বিষয়ে কাটোয়া মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির জেলা নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য বলেন, “হতে পারে শাসক দলের চাপে ওই বিএলও অনেক নাম শুনানিতে ডাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই কারণেই গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত চাপেই বিএলওরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন (BLO missing)।”
