Shuvendu Adhikari's Ex-Post about Durgangan
Bengal Liberty: নিউটাউনে ‘দুর্গাঙ্গন’ প্রকল্পের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৯ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই প্রকল্পের শিলান্যাস করার কথা। তবে নির্ধারিত স্থান বদলানো হয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (subhendu adhikari)। এই দাবি তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য (subhendu adhikari)
সূত্রের খবর, আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সম্পন্ন হবে ভিতপুজো। শিলান্যাসের পরপরই শুরু হয়ে যাবে দুর্গাঙ্গন নির্মাণের কাজ। এরই মধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, গত দু’মাস ধরে টেন্ডার ডেকে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের সংস্থাকে মাটি ভরাটের কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা সরণিতে ওয়েস্ট-ইন হোটেলের উল্টো দিকে, ইকো পার্ক সংলগ্ন স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ পূর্বনির্ধারিত জমিতে শিলান্যাস অনুষ্ঠানের জন্য বিশাল মঞ্চও তৈরি করা হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই জায়গা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
বিজেপি নেতার দাবি, ওই জমি অধিগ্রহণের সময় কিছু মুসলিম ব্যক্তির মালিকানাও ছিল। তাঁদের পরিবার এবং স্থানীয় মুসলিম সমাজের তরফে আপত্তি ওঠে—তাদের অধিকৃত জমিতে সরকারি অর্থে হিন্দু ধর্মস্থল নির্মাণ করা হচ্ছে কেন। এই আপত্তির জেরেই প্রশাসনকে স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
শুভেন্দু অধিকারীর আরও বক্তব্য, দুর্গাঙ্গন ও মহাকাল মন্দিরের মতো প্রকল্প ঘোষণার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে হিন্দু প্রমাণের চেষ্টা করলেও, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর দাবি, দ্রুত স্থান বদলে বর্তমানে নিউটাউনের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দুর্গাঙ্গনের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে শিল্পের জন্য চিহ্নিত ছিল। তিনি লেখেন,”এবার ছুঁচো গেলার অবস্থা হয় মাননীয়ার !
নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে গিয়ে দুর্গাঙ্গন, মহাকাল মন্দির ইত্যাদি বানানোর ঘোষণা করা হয়ে গেছে, আবার মুসলিম ভোট ব্যাংক কে চটালে সাড়ে সর্বনাশ!”
এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা (subhendu adhikari)। তাঁর মন্তব্য, মা দুর্গাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং আগামী দিনে সরকারকে আরও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। মা দুর্গাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন,”আসলে মাননীয়ার সময় খারাপ, এবারও ‘মেসি ম্যাজিক’ দেখাতে গিয়ে ‘মেসি ম্যাসাকার’ হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়ে গেছে। মা দুর্গা কে নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে এই অবস্থা হলো, আগামী দিনে আরও খারাপ দিন অপেক্ষা করছে মাননীয়ার জন্যে…”
প্রসঙ্গত,২১ জুলাই শহীদ দিবসের সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথ ধামের পর রাজ্যে ‘দুর্গাঙ্গন’ নির্মাণের ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার পরই নিউটাউনে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়। এই প্রকল্পের জন্য ধার্য করা হয়েছে প্রায় ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। পরিকল্পনামাফিক কাজ এগোলে ২০২৭ সালের মধ্যেই নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। তবে বিধানসভা ভোটের আগে দুর্গাঙ্গনকে ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছে। শিলান্যাস ও প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও শাসকদলের দাবি, এটি রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগ।
