CM in row over mixing up Lord Krishna and Ramakrishna Paramahansa
Bengal Liberty: ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলার অভিযোগে ফের বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM mamata Banerjee) । সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে লক্ষীর পাঁচালী প্রসঙ্গে ভুল মন্ত্র উচ্চারণ এবং সরস্বতী বন্দনার সঙ্গে তা গুলিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের দাবি, যিনি প্রকাশ্যে হিন্দু ধর্মকে ‘গন্দা ধর্ম’ এবং মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলে আক্রমণ করেছেন, তাঁর মুখে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও ভাগবদ্গীতা সংক্রান্ত মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ধর্মীয় জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার হিন্দু ধর্মের মূল দর্শন ও ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পরমহংস’ একটি সংস্কৃত উপাধি যা সেই সব আধ্যাত্মিক মহাপুরুষদের দেওয়া হয়, যাঁরা ব্রহ্মজ্ঞানের অধিকারী এবং মোক্ষপ্রাপ্ত। সেই কারণেই শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ দেবকে ‘পরমহংস’ বলা হয়। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং সৃষ্টির কর্তা ও পূর্ণ অবতার তাঁকে পরমহংস বলা ধর্মতাত্ত্বিকভাবে ভুল এবং অসম্মানজনক বলে দাবি করা হচ্ছে।
এছাড়াও ভাগবদ্গীতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরেও আপত্তি উঠেছে। ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ যে উপদেশ দিয়েছিলেন সেটিই গীতা, যা পরে মহর্ষি বেদব্যাস লিপিবদ্ধ করেন। শ্রীকৃষ্ণ গীতার বক্তা, লেখক নন এই মৌলিক বিষয়টি উপেক্ষা করেই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিজেপির বক্তব্য, (CM mamata Banerjee)
হিন্দু ধর্মে ‘ধর্ম’ মানে কেবল আচার নয়। কর্তব্য, কর্ম, আত্মসমর্পণ ও আত্মোপলব্ধির পথ। মুখ্যমন্ত্রী নিজের মতো করে ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে সেটিকে গীতার বাণী বলে চালানোর চেষ্টা করছেন, যা আদতে ধর্মীয় বিকৃতি। পাশাপাশি লক্ষীর পাঁচালী নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের লোকাচারে প্রচলিত লক্ষীপাঁচালীর সঙ্গে সরস্বতী মন্ত্র গুলিয়ে ফেলার ঘটনাকে হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা বলেই দেখছে বিরোধীরা।
কেন বারবার এমন মন্তব্য? (CM mamata Banerjee)
বিজেপির অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে পরিকল্পিতভাবেই হিন্দু ধর্ম, বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে ছোট করে দেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় আবেগে আঘাত করে একাংশকে তুষ্ট করার রাজনীতি করা হচ্ছে বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের।
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর (CM mamata Banerjee) বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে এটি কি অজ্ঞতা, না কি সচেতনভাবে হিন্দু ধর্মকে অবমূল্যায়নের রাজনৈতিক কৌশল? বিরোধীদের মতে, এবার এই অপমানের উপযুক্ত রাজনৈতিক জবাব দেবে রাজ্যের হিন্দু সমাজ।
