Tamanna’s mother
Bengal liberty Desk, ৭ জানুয়ারি, কলকাতা: গত বছরের জুন মাসে কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলাফলের দিন বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ১১ বছরের তামান্না খাতুনের (Tamanna Khatun Murder Case)। সেই ঘটনার বিচার চেয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তামান্নার মা সাবিনা বিবি (Sabina Bibi)। কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠেই এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন কন্যাহারা অসহায় মা (Tamanna Khatun Murder) ।
বাড়ি ফেরার পরই সাবিনা বিবির বক্তব্য (Tamanna Khatun Murder)
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরা মাত্র মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপেই এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগোতে পারে। আজ, বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জে নিজের বাড়ি থেকে সাবিনা বিবি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “উনি হয়তো বুঝতে পারছেন না মেয়েকে হারিয়ে আমার কতটা কষ্ট হচ্ছে। আমি চাই, উনি আমায় একটু সময় দিন। আমি ওনার কাছে আমার যন্ত্রণার কথা বলতে চাই।”
ঘটনার বৃত্তান্ত (Tamanna Khatun Murder)
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৩ জুন। কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে শাসকদলের বিজয়োৎসব চলাকালীন বোমাবাজিতে প্রাণ যায় নাবালিকা তামান্না খাতুনের। মুহূর্তে এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্ক। ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং পরে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
তবে তামান্নার পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে, তদন্ত অসম্পূর্ণ। চার্জশিটে মোট ১৪ জনের নাম থাকলেও এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ১০ জন। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন চার্জশিট জমা পড়েনি, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সাবিনা। তাঁর আশঙ্কা, আইনি ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে গেলে ফের তাঁদের উপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
এই অনিশ্চয়তা, মেয়ের বিচার না-পাওয়ার হতাশা ও দীর্ঘ মানসিক যন্ত্রণাই সাবিনাকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান সাবিনা (Tamanna Khatun Murder)।
