Congress exits Left alliance
Bengal Liberty Desk, ৮ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এক আমূল পরিবর্তনের পথে। গত এক দশকের জোট সঙ্গী কংগ্রেস এবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা রাজ্যের সব আসনেই এককভাবে লড়াই করবে (Congress exits Left alliance)। এই পরিস্থিতিতে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নতুন সঙ্গী খুঁজছে নাকি একক শক্তিতে নামবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
Congress exits Left alliance: কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতি ও বামেদের অস্বস্তি!
দিল্লিতে এআইসিসি (AICC)-র সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় শক্তির বিরুদ্ধেই সমদূরত্ব বজায় রেখে তাঁরা ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেবেন। এর ফলে ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে গড়ে ওঠা বাম-কংগ্রেস জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যাওয়ার মুখে। বাম শিবিরের মতে, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ISF-এর আসন নিয়ে অনড় অবস্থান!
এদিকে বামেদের আর এক শরিক ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) এবার আরও বেশি আসন দাবি করছে। নওশাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট করেছেন যে, জোট টিকিয়ে রাখতে হলে তাঁদের অন্তত ৫০ থেকে ৫৬টি আসন দিতে হবে। তবে বামফ্রন্টের অন্দরের শরিক দলগুলো যেমন ফরওয়ার্ড ব্লক ও RSP নিজেদের জেতা আসন ছাড়তে নারাজ। এই আসন রফা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ISF-এর সঙ্গেও জোট বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
বিজেপিতে হুমায়ুন! Bengal Liberty | Humayun Kabir | West Bengal Election | 2026 Election#humayunkabir #WestBengal #WestBengalNews #westbengalelection2026 #electionnews #bidhansabha #bidhansabhavote #bengalliberty pic.twitter.com/FcVtLWFOCF
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) February 3, 2026
বিকল্প জোটের সন্ধানে সিপিএম?
কংগ্রেস পাশে না থাকায় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও রাজ্য সিপিএম নেতৃত্ব ছোট ছোট বিরোধী দলগুলোকে একছাতার তলায় আনার চেষ্টা করছেন। সূত্রের খবর, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বা বিক্ষুব্ধ হওয়া নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাম শিবির।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক রক্ষায় মরিয়া বাম শিবির
মিম (AIMIM) বা এসডিপিআই (SDPI)-এর মতো শক্তির সঙ্গে কোনও গোপন সমঝোতা বা বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের পথে বামেরা হাঁটবে কি না, তা নিয়ে যখন জল্পনা চলছে তখন এরই মধ্যে এবার সিপিএম ‘মিম’-এর দ্বারস্থ হয়ে বলে শোরগোল রাজ্য-রাজনীতিতে! মিমের কাছে সিপিএমের ফোন গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে! সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে খবর। মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি ফোন পাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। যদিও এই ফোনের কথা অস্বীকার করেছেন মহম্মদ সেলিম। বিভিন্ন রকম ‘জঞ্জাল’কে তাঁদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের।

বামেদের কটাক্ষ বিজেপির
এদিকে, জোট ইস্যুতে সিপিএমকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, ‘দেখুন, কার হাত ধরবে, আমাদের জানা নেই। বামফ্রন্টের অবস্থা হচ্ছে, এখন হয়ে গেছে সেই ছেলে বা মেয়ের মতো, যার ৩ মাসের বেশি বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড টেকে না।’
শরিক ‘বিদ্রোহ’ সামাল দিতে আসরে বিমান
জোট জটিলতার মাঝে শরিক ‘বিদ্রোহ’ সামলাতে আসরে নামতে হয়েছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকেও। আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক। তার মধ্যে জোট ও শরিকদের সঙ্গে আসন সংক্রান্ত যাবতীয় জটের অবসান ঘটাতে চাইছে মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীরা। সূত্রের আরও খবর, কার সঙ্গে কার নির্বাচনী জোট হবে, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে বামফ্রন্টের তরফে।
মূল লড়াই এবার চতুর্মুখী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাম-কংগ্রেস-ISF জোট পুরোপুরি ভেঙে যায়, তবে ২০২৬-এর লড়াই হবে মূলত তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের মধ্যে এক চতুর্মুখী সংগ্রাম। এই পরিস্থিতির সুযোগ শাসক দল তৃণমূল কতটা নিতে পারবে নাকি অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ভোটে ভাগ বসিয়ে বামেরা ঘুরে দাঁড়াবে, তা সময়ই বলবে।


