Madrasah teachers protest
Bengal Liberty Desk:
পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতিতে মুসলিম(Madrasah teachers protest) ভোটব্যাঙ্ক (Muslim vote bank) বহুদিন ধরেই রাজনীতির অন্যতম ফ্যাক্টর। খাতায়-কলমে ‘সংখ্যালঘু’ (Minority) হলেও, বাস্তবে এই ভোটই একাধিক নির্বাচনের (Election) ফল ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০১১ সাল থেকে সেই ভোটব্যাঙ্কের (Votebank) উপর কার্যত একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
কিন্তু এবার সেই সংখ্যালঘু সমাজেরই একাংশ থেকে প্রকাশ্যে উঠে আসছে ক্ষোভ, বঞ্চনার অভিযোগ এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ।
বঞ্চনার অভিযোগে দু’মাস ধরে রাস্তায় মাদ্রাসার শিক্ষকরা (Madrasah teachers protest)
প্রায় ৫৮ দিন অর্থাৎ দু’মাস ধরে সল্টলেকের (Salt Lake) রাস্তায় অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন আনএডেড মাদ্রাসার শিক্ষকরা (Unaided Madrasa Teachers)। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তাঁরা চরম বঞ্চনার শিকার। শুধু শিক্ষক নন, তাঁদের মাদ্রাসার পড়ুয়ারাও (Madrasa students) সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মিড ডে মিল, স্কুলের পোশাক, পাঠ্যপুস্তক, কিছুই পায় না ছাত্রছাত্রীরা। অন্যদিকে শিক্ষকরা ভুগছেন তীব্র বেতন বৈষম্যে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ (Madrasah teachers protest)
আন্দোলনরত শিক্ষকরা(Madrasah teachers protest) স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করছেন, সামান্য কিছু ভাতা দিয়ে রাজ্য সরকার কার্যত তাঁদের অকেজো করে রেখেছে। এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন,”আমাদের এমন জায়গায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে নিজের সন্তানদের পড়ানোর সামর্থ্য নেই। ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে আমাদের সংসার চলে না। সরকার আমাদের পথের ভিখারি করে ছেড়েছে।”

“সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছে শাসক দল” – আন্দোলনকারী মাদ্রাসা শিক্ষক (Madrasah teachers protest)
এই ক্ষোভ অবশ্য নতুন নয়। এক সময় সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ বামেদের পাশে থাকলেও, বাম জমানার শেষদিকে মুসলিম সমাজের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তার ফলেই ২০১১ সালে বিপুল সংখ্যক মুসলিম ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে যায়। পরবর্তী বছরগুলিতে সেই ভোটের অঙ্কটা আরও বাড়তে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যেই অভিযোগ বাড়তে থাকে, তৃণমূল তাদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ব্যবহার করছে শুধুমাত্র ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে।
আজ সেই অভিযোগই ফের উঠে এল মাদ্রাসা শিক্ষকদের আন্দোলন মঞ্চ থেকে। আন্দোলনকারীরা সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “২০১১ সাল থেকে সংখ্যালঘুদের শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলা হয় সংখ্যালঘুদের জন্য ১০০ শতাংশ কাজ করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনও ছিঁটেফোঁটাও নেই।” আরও এক ধাপ এগিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে আন্দোলনকারীরা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু দরদী নন, সংখ্যালঘু বিরোধী। মাননীয়ার মানবিকতা নেই।”
সল্টলেকের রাস্তায় বসে থাকা এই শিক্ষকরা এখন শুধু বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন না, তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন শাসক দলের রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়েও। যে সংখ্যালঘু ভোটকে ভর করে বছরের পর বছর ক্ষমতা কায়েম রয়েছে, সেই সমাজের একাংশ আজ প্রকাশ্যে বলছে-তারা প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, সম্মান পায়নি। ভাতা দিয়ে সংসার চলে না। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মাদ্রাসা শিক্ষকদের আন্দোলন ও অভিযোগ তৃণমূলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
