Bengal Liberty: চোরবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় আট অভিযুক্তকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। বৃহস্পতিবার কালিয়া ছাড়া বাকি অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানো হয়। শুনানিতে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, এত মানুষের মৃত্যু বা আহত হওয়ার উদ্দেশ্য অভিযুক্তদের না থাকলেও, তাঁদের কাজে এমন পরিণতি হতে পারে, সেই জ্ঞান তাঁদের ছিল। পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, পুজো কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী—কেউই নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। মণ্ডপের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আদালতে সওয়াল করা হয়। বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে পুজো কমিটির পাঁচ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল বলেও আদালতে জানানো হয়। সেই সংক্রান্ত নথি তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলে দাবি সরকারি পক্ষের।
শুনানিতে আরও বলা হয়, মণ্ডপে এমনভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যার জেরে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঘোষণার সময় দর্শনার্থীদের শান্তভাবে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত বলেও দাবি সরকারি আইনজীবীর।
আরও খবর
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনায় পুজোর সঙ্গে যুক্ত শিল্পী এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চোরবাগান কাণ্ডে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছিল এবং কার কতটা দায়িত্ব ছিল, তা নিয়েই তদন্ত চলছে। আদালতে দু’পক্ষের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঘটনার দায় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে বিতর্ক আরও সামনে এল।


